সুনামগঞ্জে পিআইবির প্রশিক্ষণ কর্মশালা বর্জন করলো মূলধারার সাংবাদিকরা

স্টাফ রিপোর্টার 
সুনামগঞ্জে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর প্রশিক্ষণ কর্মশালা বর্জন করেছে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীরা। সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব ও সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই সুনামগঞ্জে প্রশিক্ষণের আয়োজন করায় প্রশিক্ষণ বর্জন করেছেন তারা ।বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিন ব্যাপী পিআইবি’র শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতা মূলক যোগাযোগ কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ জেলা সাংবাদিকদের জন্য সিআরসি, সিডো ও মীনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মূলধারার বেশিরভাগ গণমাধ্যমকর্মীকে অবহিত না করে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে পিআইবি। এজন্য জেলা শহরের মূলধারার সাংবাদিকদের এই দুটি সংগঠন প্রশিক্ষণ কর্মশালা বর্জন করে।এবিষয়ে যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার হাবিব সরোয়ার আজাদ বলেন, পিআইবি সুনামগঞ্জের সাংবাদিকদের নিয়ে ২ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। সেখানে মূলধারার কোনো সংবাদকর্মীকে বলা হয় নি। একদিন আগে কয়েক জনকে বলেছে প্রশিক্ষণের ব্যাপারে। এজন্য আমরা প্রশিক্ষণ বর্জন করেছি। পিআইবি’র মতো একটি প্রতিষ্ঠানের এরকম আচরণ খুবই দুঃখজনক।সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও ইত্তেফাক’র সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি বুরহান উদ্দিন বললেন, পিআইবির কর্মকর্তারা সুনামগঞ্জ পৌছে প্রশিক্ষণের আগের রাতে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করার জন্যে ফোন দেন। আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম সেখানে মূলধারার কোনো গণমাধ্যমকর্মী নেই। এ কারণে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা বর্জন করেছি।সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক আমাদের সময়ের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদার বলেন, পিআইবির দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি দায়সারা ভাবে আয়োজন করেছেন তারা। ঢাকা থেকে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এসেছেন যারা তারা প্রশিক্ষণের আগের সন্ধ্যায় আমাদেরকে জানান, যা কাম্য নয়, এ কারণে আমরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করি নি।সুনামগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও মোহনা টিভির সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাস বললেন, পিআইবি কর্তৃপক্ষ শহরের মূলধারার সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। পিআইবির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এরকম আচরণ আমরা আশা করি নি।সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি একেএম মহিম বলেন, পিআইবি জেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের মানোনয়নে কাজ করে। এজন্য বিভিন্ন সময় তারা মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। ঢাকা থেকে যোগাযোগ করে তালিকা করার প্রয়োজন ছিলো। তারা সেটি করেন নি। জেলা শহরের একদুজন ব্যক্তির পরামর্শে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন হয়েছে। এজন্য আমরা বর্জন করেছি।সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে বলেন, পিআইবি সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য এসেছেন। মূলধারার সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই এই আয়োজন হয়েছে। কারা কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, আমরা জানি না। এজন্য জেলা শহরে কর্মরত মূলধারার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন নি।যেসকল গণমাধ্যমের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেনিদৈনিক ভোরের কাগজ, প্রথম আলো, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক আমাদের সময়,  দৈনিক  সমকাল, দৈনিক সময়ের আলো, দৈনিক ইত্তেফাক, নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন, দৈনিক কালেরকণ্ঠ, একাত্তর টিভি, চ্যানেল আই, দৈনিক একাত্তরের কথা, জাগো নিউজ, এনটিভি, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর, এটিএনবাংলা, এটিএন নিউজ, ঢাকা পোস্ট, মোহনা টিভি, দৈনিক দেশরুপান্তর, ঢাকা ওয়েব, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর, সিলেট মিরর, দৈনিক মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদকগণ।সুনামগঞ্জে আসা পিআইবির সহকারী প্রশিক্ষক বারেক কায়সার’এর কাছে এই বিষয়ে জানার জন্য ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করে, পরিচয় দেবার পর ফোন কেটে দেন। এরপর আর ফোন রিসিভ করেন নি।