সুনামগঞ্জে প্রচণ্ড তাপদাহে অস্থির জনজীবন

স্টাফ রিপোর্টার
প্রচ- তাপদাহ। একেবারে অস্থির জনজীবন। একদিকে খরতাপ, অন্যদিকে ভ্যাপসা গরম, আবার নেই বিদ্যুৎও। সোমবার সুনামগঞ্জ শহরের কোন কোন এলাকায় নাভিশ্বাস উঠেছিল সাধারণ মানুষের। সিলেট আবহাওয়া বিভাগের প্রধান আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন সোমবার বিকাল ৩ টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদরে তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।
শহরের কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভ্যাপসা গরম ছিল অসহনীয় মাত্রায়। জরুরি কাজ ছাড়া লোকজন বাইরে না বেরুলেও ঘরে থাকাও ছিল দায়। শহরের কিছু এলাকায় আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে সকাল ৮ টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করায় যন্ত্রণা সইতে পারছিলেন না মানুষ।
শহরের নতুন কোর্ট পয়েন্ট, হাজীপাড়া, নতুনপাড়া, বাঁধনপাড়া, হোসেন বখ্ত চত্ত্বর, হাছননগর, শহীদ আবুল হোসেন রোড, নতুন হাছন নগর, আপ্তাবনগর, বুড়িস্থল থেকে বেতগঞ্জ পর্যন্ত বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিশাল এই এলাকার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠেছিল। এছাড়া, শহরের অন্যান্য এলাকায়ও কিছুক্ষণ পরপরই বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করেছে।
নতুন কোর্ট পয়েন্টের ফটোস্টেট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রচ- গরম, এর মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় এই এলাকার ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে অনেকে ছায়াবৃক্ষের নীচে গিয়ে বসেছিলেন।
শহরতলির নতুন হাছননগরের রিক্সাচালক রফিক মিয়া বলেন, সকালে কিছু সময় চালানোর পর মাথা ঘুরতে শুরু হয়। পরে মাথায় পানি দিয়ে, গাছের নীচে রিক্সার ওপরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানালেন, আগামী কাল মঙ্গলবার এবং পরদিন বুধবার তাপদাহ্ আরো বাড়বে। ৩৬.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থেকে ৩৬.৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড’এর মধ্যে ওঠানামা করবে তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার তাপদাহ কমবে। ঈদের দিন দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বৃষ্টি হবে।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন জানালেন, আগামীকাল থেকে ঈদ পর্যন্ত আর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে লাইনে কাজ করা হবে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমের সময় ট্রান্সফরমারে লোড বেড়ে ফিউজ নষ্ট হয় বেশি। ফিউজ বদল করতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। সোমবার কোন কোন এলাকায় এমন সমস্যা হয়েছে।