সুনামগঞ্জে বিয়াম স্কুলের জমি বন্দোবস্ত প্রদানে অভিভাবকদের আশ্বাস দিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের বর্তমান ক্যাম্পাসের জমি বন্দোবস্ত প্রদানের জন্য অভিভাবকদের আশ্বাস দিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। শনিবার এ প্রতিবেদকের কাছে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেছেন,‘বিয়াম সরকারি প্রশাসনের পরিচালনাধীন স্কুল, আবার সুনামগঞ্জ বিয়াম স্কুলের জমিও সরকারের। সুতরাং এই জমি বন্দোবস্ত দেওয়াই যেতে পারে।’ এ ব্যাপারে প্রস্তাবনা পাঠানো হলে ভূমিমন্ত্রী’র সঙ্গেও তিনি কথা বলবেন বলে জানান ।
মন্ত্রী জানান, সুনামগঞ্জ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের অভিভাবকরা শুক্রবার স্কুলের বর্তমান জমি স্কুলের নামে বন্দোবস্ত প্রদানের আবেদন জানিয়ে আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। আমি আবেদনে সেভাবে নোট লিখে দিয়েছি।
পরিকল্পনা মন্ত্রীর কাছে দেওয়া অভিভাবকদের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলটি দীর্ঘদিন পূর্বে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিয়াম ফাউন্ডেশনের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইংলিশ ভার্সনের পাশপাশি বাংলা ভার্সনে অধ্যয়নেচ্ছু শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশুনা করছে। ইতোমধ্যে স্কুলের ছাত্র-সংখ্যা বেড়েছে এবং স্কুলটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নি¤œমাধ্যমিক পর্যন্ত (অষ্টম শ্রেণি) পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। এ পর্যায়ে স্কুলটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণের জন্য স্কুলটি যে জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সে জমিই স্কুলের নামে বন্দোবস্ত প্রদানের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় বিয়াম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের একটি প্রতিষ্ঠান হলেও তা সরকারি অর্থে ও অনুদানে পরিচালিত হওয়ায় মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঢাকাসহ সারা দেশে ৪০ টি স্কুল কলেজ পরিচালনা করে আসছে। সুনামগঞ্জে স্কুলের স্থায়ী সভাপতি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক সদরের ইউএনও, জেলা প্রশাসকসহ জেলা পর্যায়ের সব সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানাদি সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং সর্বস্তরের মানুষের সন্তানরা ছাত্র-ছাত্রী হিসাবে এখানে অধ্যয়ন করছে। এই স্কুলটি মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিচালিত হয়ে আসছে। স্কুলের পাশেই সুরমা নদী, দূরে মেঘালয়ের পাহাড় যা ছাত্র-ছাত্রীদের কোমল মনে উদার অনুভূতির সৃষ্টি করে। তাদের দিন শুরু হয় প্রকৃতির মায়াময় পরিবেশে।
অভিভাবকদের আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন এই স্থানে বিয়াম স্কুলটি পরিচালিত হওয়ায়’এর কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক, অভিভাবক সবার কাছে এটি আবেগের অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত। এ অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব জমিটি বিয়াম স্কুলের নামে বন্দোবস্ত প্রদান করে স্কুল উন্নয়নের পথ সুগম করার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ করা হচ্ছে।
আবেদনে বিয়াম স্কুলের অর্ধ শতাধিক অভিভাবক স্বাক্ষর করেন।
স্বাক্ষরকারী অভিভাবকদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান পীর, জান্নাতুল ফেরদৌস, নাজিরা জাহান চৌধুরী, মো. খায়রুল কবির রুমেন, অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, মো. আলী খুশনুর, পঙ্কজ কান্তি দে, রিপা বেগম, সীমা রানী বিশ্বাস, কামরুন নাহার চৌধুরী, মাহতাব উদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।
সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন,‘জমিটি অফিসের হিসাবে রেকর্ডপত্রে উল্লেখ রয়েছে, এজন্য বন্দোবস্ত প্রদানে কিছু সমস্যা রয়েছে। তবুও দেখছি আমরা কী করা যায়।’