সুনামগঞ্জ-কাটাখালি রাস্তার কাজের মানের দিকে নজর দিন

সুনামগঞ্জ-আমবাড়ি-কাটাখালি সড়ক সংস্কার কাজের যে ধীর গতি এবং ঠিকাদারের কাজ সম্পাদনের যে প্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে তাতে এই সড়কে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সুনামগঞ্জ-কাটাখালি সড়কে যে ধরনের সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ চলছে জেলার সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর রোডের চালবন্দ-বিশ্বম্ভরপুর পর্যন্তও একই ধরনের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু দুই কাজের মধ্যে বিস্তর ফারাক। এই দুই রাস্তায় সম্প্রতি যাতায়াত করেছেন এমন যেকোনো ব্যক্তি দুই সড়কে কাজের আকাশ-পাতাল পার্থক্যটি অনুধাবনে সক্ষম হবেন। বিশ্বম্ভরপুর সড়কে যেখানে ঠিকাদার প্রায় সকল কাজই যন্ত্রের সাহায্যে করছেন সেখানে কাটাখালি রাস্তার ঠিকাদার যাবতীয় কাজ শ্রমিক দিয়ে করাচ্ছেন। তাও সড়কে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল। বিশ্বম্ভরপুর সড়কের পুরাতন ঢালাই ভেঙে এবং সড়কের দুই পাশের গর্ত খুঁড়ে আবার সেই গর্ত বালু দ্বারা ভরাট করে পুরো সড়ককে সমান করে দেয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে কাটাখালি সড়কে আজ এখানে কাল ওখানে কিছু গর্ত করা হচ্ছে আবার সেই কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে দিনের পর দিন। ফলে পুরো রাস্তার এখানে-ওখানে গর্ত খুঁড়ে বের করে আনা মাটি এবং নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এতে একে তো ভাঙা সড়ক তদুপরি রাস্তার প্রশস্ততা কমে যাওয়ায় এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলোকে সীমাহীন দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে। বলাবাহুল্য সুনামগঞ্জ-কাটাখালি-দোয়ারাবাজার সড়কটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সীমাহীন যাতায়াত যন্ত্রণার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। সড়কের আমূল সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার মানুষের মাঝে যে স্বস্তি দেখা গিয়েছিলো এখন কাজের অসম্ভব শ্লথ গতির কারণে সেই স্বস্তি আবারও হতাশায় পরিণত হয়েছে। সড়ক নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগকে তাই ঠিকাদারদের কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশনা দান একান্ত প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জ-কাটাখালি সড়কের সংস্কার কাজের সাথে এই সড়কের পুরাতন কিছু সেতু ভেঙে তদস্থলে নতুন বক্স কালভার্ট-সেতু তৈরি করা হচ্ছে। এরূপ ৭টি সেতু এ রাস্তায় নির্মিত হবে। ইতোমধ্যে তিনটি সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সেতুর এপ্রোচ রাস্তা ঠিক করে না দেয়ায় নির্মিত সেতুগুলোর উপর দিয়ে এখনও যানবাহন চলাচল শুরু করতে পারেনি। সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ভোগান্তি হ্রাস পাবে। কিন্তু নির্মাণকালীন ভোগান্তি যতটুকু কম রাখা যায় তাই ব্যবস্থাপনাগত উৎকর্ষতার লক্ষণ। আমরা আশা করব সড়ক ও জনপথ বিভাগ জেলার বিশ্বম্ভরপুর সড়কে ঠিকাদার যেভাবে কাজ করছেন সেটি এই রাস্তায় প্রযুক্ত করা যায় কিনা তা বিবেচনা করবেন।
জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য কাটাখালি সড়কটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে সহজে ছাতক যাওয়া যায়। রাস্তার খারাপ অবস্থার জন্য এখনও এই সহজ যোগাযোগ রাস্তাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। কাটাখালি রাস্তার কাজ শেষ হলে জেলা সদর থেকে এই রাস্তায় ছাতক যাওয়ার নিঝর্ঞ্ঝাট রাস্তাটি চালু হওয়া সম্ভব। এই রাস্তায় ছাতক যাওয়া শুরু হলে বর্তমান সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে আসত এবং মানুষও সহজে ছাতক যাওয়ার সুখ অনুভব করতে পারতেন। তাই সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিকট আমাদের অনুরোধ জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি যাতে মানসম্মতভাবে এবং কম সময়ের মধ্যে শেষ হয় সেদিকে নজর দেয়ার। একটি ভাল সড়ক হলে এলাকাবাসী নির্মাণের সাথে জড়িত সকল পক্ষের প্রতিই কৃতজ্ঞ থাকবেন।