‘‘সুনামগঞ্জ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়” শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত

সনাক সদস্য ও শিক্ষা বিষযক উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক পরিমল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সাথে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর ‘‘ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সনাকের পক্ষে ‘‘করোনা সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতায় করণীয় বিষয়ে কি-নোট পেপার উপস্থাপন করেন ইয়েস দলনেতা সোহানুর রহমান। টিআইবি’র এরিয়া কো অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আরিফুর রাহমান এর সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস, জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মানিক চন্দ্র দাস, প্রথম আলো প্রতিনিধি খলিল রহমান, সৃজন বিদ্যাপিঠের শিক্ষিকা কানিজ সুলতানা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টী প্রতিনিধি বাদল হাজং, শহর বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার খানম, অভিভাবক প্রতিনিধি ইভা রায়।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা সকল বিদ্যালয়ে এ্যাকটিভ মাদারস কমিটি সক্রিয়করণ, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শ্রেণি ভিত্তিক মা সমাবেশ আয়োজন, হোম ভিজিটের মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি, শিক্ষার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তদারকি বৃদ্ধি করা, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্কুল পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধে নানা ধরনের কৌশলী পদক্ষেপ, হাওর এলাকার শিক্ষক ও স্কুলের জন্য বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, তথ্যের উন্মক্ততা বিষয়ে শিক্ষা কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া অভিভাবকদের মধ্য থেকে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য ক্লাস টাইম বা রুটিনের প্রতি মনোযোগ, সিলেবাস অনুযায়ী পড়ানো, শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধান করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। একইসাথে আলোচকগণের পক্ষ থেকে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা ও নৈতিক শিক্ষা চর্চার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে ধুমপান থেকে বিরত থাকা, শিক্ষকগণ মোবাইলে আসক্ত না হওয়া, শিক্ষার্থীদের ভিডিও গেম থেকে বিরত রাখা, শিক্ষকদের প্রায়োগিক আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার প্রতি উৎসাহিত করার প্রতি জোর তাগিদ দেওয়া হয়।
সনাক সুনামগঞ্জ কর্তৃক সুপারিশকৃত প্রস্তাবগুলো হলো :
১.করোনা সংকটকালীন সময়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সঠিক তালিকা তৈরী করা ও স্কুলমুখী করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা,
২. হাওর এলাকার শিক্ষক ও স্কুলের জন্য বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা,
৩.নিয়মিত এস এম সি ও মা সমাবেশ করা,
৪. এস এম সি সদস্যদের আরো জবাবদিহিদার আওতায় নিয়ে আসা,
৫.স্লিপ ফান্ড হতে প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা,
৬. সকল স্কুল সমূহে শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষকদের পোস্টিং সমন্বয় করা,
৭.অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দকৃত তহবিলসহ স্লিপ ফান্ড এর ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নাগরিক অংশগ্রহণ এর সুযোগ ও যাবতীয় তথ্য উন্মুক্ত করা; সর্বোপরি, করোনাকালীন বা তৎপরবর্তীতে অর্থনৈতিক দুরাবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বেড়ে যেতে পারে – এটি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা ইত্যাদি সুপারিশ বক্তারা উত্থাপন করে।
সভায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম আব্দুর রহমান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে এই করোনা সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চলমান রাখার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাক্রমে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সভায় উত্থাপিত সুপারিশসমূহ বিবেচনায় নিয়ে আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেব। তিনি প্রাথমিক শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে নির্দেশনা প্রদান এবং অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। তিনি সনাক-টিআইবিকে প্রাধমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে সাফল্য অর্জন করায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। টিআইবির বর্তমান প্রকল্পে সনাকের কাজে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি এই সময়ে এই রকম একটি সময়োপযোগী সভা আয়োজন করায় সনাক-টিআইবিকে ধন্যবাদ জানান।
সভার সভাপতি অধ্যাপক পরিমল কান্তি দে বলেন, আমরা মনে করি শিক্ষা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক এবং অভিভাবকদেরকে সম্পৃক্ত করে এই করোনা সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চলমান রেখে সকলের সমন্বিত উদ্যোগে শিক্ষার মান উন্নয়ন করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবো। তিনি সভায় উপস্থিত থেকে মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি