সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন/ পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা পরিষদের নির্বাচন যতই এগুচ্ছে সুনামগঞ্জে নির্বাচনী পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নানা পদক্ষেপ এবং বক্তব্য উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী কর্তৃক প্রতিদ্বন্দ্বি অপর প্রার্থীর হলফনামার তথ্য ভুল দাবি করে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের নিয়েও দুইপক্ষে ক্ষোভ আছে। নিজেদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ শেষ মূহূর্তের ভোটের প্রচারণায় এসব বিষয় সামনে নিয়ে আসছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ঘনিষ্টরা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেওয়া হলফনামায় সম্পদ বিবরণির অংশে অনেক সম্পদ গোপন রেখেছেন দাবি করে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী খায়রুল কবির রুমেনের পক্ষে হাইকোর্টে বুধবার রিট (নম্বর ১১৮০১/২০২২) দায়ের করা হয়।
এই রিট দায়েরের খবর সুনামগঞ্জে পৌঁছালে নুরুল হুদা মুকুটের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবাদ জানায়। তাদের প্রতিবাদে বলা হয়, ভোটাররা প্রত্যাখান করায় ভোট চাইতে না গিয়ে ‘মিথ্যা’র আশ্রয় নিয়ে বাঁকা পথে হাটছেন ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী রুমেন। অন্যদিকে, রুমেনের পক্ষে তার সমর্থকরা মুকুটের সম্পদের বিষয়টি সামনে এনে হলফনামায় ভুল তথ্য দেবার কথা ভোটারদের জানাচ্ছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল হুদা মুকুট বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদককে বলেন, ভোটে না পারার ভয়ে বাঁকা পথে হাঁটছেন ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী খায়রুল কবীর রুমেন ও তার ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। তিনি দাবি করেন, ইমন দশ বছর জেলা পরিষদের প্রশাসক থাকলেও তাঁর সময়ে কোন উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁকে ভোটাররা ভোট দেন নি। এবার ইমনের ভাই রুমেন পিপি’র পদ ছেড়ে আমার সঙ্গে জেলা পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভাই ইমনের মত কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে চাইছেন রুমেন। রুমেন শুরু’র দিকে প্রচার দেন, ভোট না দিলেও ইভিএম কারচুপি করে জয়লাভ করবেন। এমন প্রচার করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন তারা। এবার শেষ মূহূর্তে ভোটারের কাছে না গিয়ে, ভোটের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে হাইকোর্টে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারা। সেখানেও ষড়যন্ত্র ব্যার্থ হয়েছে। মুকুট সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক কর্তৃক আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ছাতক ও দোয়ারার ভোটারদের হুমকি ধমকি দেবারও অভিযোগ আনেন।
অপরদিকে, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন বললেন, আমি কিংবা আমার ভাই ইমন অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে কখনোই যুক্ত হইনি। জবাবদিহিতামূলক দুর্নীতিমুক্ত পরিচ্ছন্ন জেলা পরিষদ বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়েছি আমি। আমি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী। নির্বাচিত হলে সকলকে নিয়ে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিয়ে জেলা পরিষদ সাজাবো। প্রচারণার শুরু থেকে ভোটারের সঙ্গেই আছি। নুরুল হুদা মুকুট হলফনামায় তার বিরুদ্ধে থাকা মারামারির মামলার কথা উল্লেখ করেননি। আইনগত অধিকার সবার আছে, এজন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মূহূর্তে উত্তেজনাকর পরিবেশ হওয়ায় বৃহস্পতিবার প্রার্থী ও সমর্থকদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন। এসময় তিনি বলেন, ভোট ইভিএমএ হবে। নির্বাচনে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করবেন। কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ থাকবে। র‌্যাবও টহল দেবে। কেউ নির্বাচনী পরিবেশের বিন্দু মাত্র বিঘœ সৃষ্টি করলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে। ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও থাকবে। মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারগণ সেখান থেকে নির্বাচন মনিটরিং করবেন। আমরা মনিটরিংয়ে থাকবো। সামান্য অনিয়ম হলে, সাথে সাথে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রার্থীদের ক্ষতি হবে। নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে খারাপের দিকে না যায় সকলকে খেওয়াল রাখতে হবে। কেউ পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে, কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা উত্তম রায় উপস্থিত ছিলেন। এসময় ইভিএমএ ভোট দেবার পদ্ধতিও দেখিয়ে দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জে আগামী ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১২ কেন্দ্রের ২৪ বুথে ১২২৯ ভোটার ভোট দেবেন।