সুনামগঞ্জ পৌরসভায় কেন পুলিশের অভিযান?

সুনামগঞ্জ পৌর ভবনে কেন পুলিশি অভিযান, পৌরবাসীর আলোচনার বিষয়বস্তু এটি মঙ্গলবার বিকাল থেকেই। ওইদিন বিকালে পুলিশের একটি বৃহৎ দল পৌরভবনে প্রবেশ করে তল্লাশি পরিচালনা করে। হঠাৎ করে পৌরসভার মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পুলিশ কেন অভিযান পরিচালনা করল, এই বিষয়ে পুলিশ বা পৌর কর্তৃপক্ষ কেউই মুখ খুলছেন না। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিশেষ খবর পেয়েই তারা পৌরভবনে গিয়েছেন। কিন্তু সেই বিশেষ খবরটি কী, কোটি টাকার এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না কোনো পক্ষ। ফলে নাগরিক সমাজ যার যার মতো করে ঘটনার বিশ্লেষণ করে চলেছেন। বলা বাহুল্য যতক্ষণ পর্যন্ত মঙ্গলবারের এই অভিযান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেয়া না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এই আলোচনা ডালাপালা গজাতে থাকবে। পৌরসভার মতো একটি স্বশাসিত নাগরিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত এই অভিযানকে পৌর নাগরিকদের অনেকেই লজ্জার কারণ হিসাবে দেখছেন। কোন ধরনের অপরাধকার্য কিংবা বেআইনি কার্যকলাপ ছাড়া পুলিশ কোথাও কোনো অভিযান পরিচালনা করে না। পৌরসভাকে ঘিরে কোন্ অপরাধ বা বেআইনি কর্মকা- পরিচালিত হচ্ছিল, যাতে হঠাৎ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এত বড় অভিযান পরিচালনা করতে হলো? প্রতিটি পৌর নাগরিকের এই প্রশ্নের উত্তর জানার অধিকার রয়েছে।
পৌরমেয়র ঘটনার দিনে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তিনি ফোন না ধরায় সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য প্রচার করতে পারেনি। ভারপ্রাপ্ত মেয়র কিংবা পৌরসভার অন্যরা স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ঢাকায় অবস্থান করেও পৌর মেয়র নিশ্চয়ই অভিযানের খবর পেয়েছেন। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত মুখ খুললেন না। অথচ প্রতিষ্ঠানের উচ্চ ভাবমূর্তির কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সুষ্পষ্ট বিবৃতি দেয়া অবশ্য কর্তব্য ছিলো। তারা সেটি না করে নাগরিকদের সন্দেহকে বাড়িয়ে দিয়েছেন। একই সাথে পৌরবাসীকে মর্মপীড়ার মধ্যেও ঠেলে দিয়েছেন। পৌরসভা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। পৌরমেয়রকে পৌরবাসীর অভিভাবক মান্য করা হয়। এরকম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিদের প্রতিটি কর্মকা- নির্বাচকম-লীর আবেগ-অনুভূতির সাথে জড়িত। জনপ্রতিনিধিদের সকলেই পরিচ্ছন্ন ইমেজধারী হিসাবে দেখতে আগ্রহী। কিন্তু মঙ্গলবার হঠাৎ করে পৌরভবনে পরিচালিত পুলিশি অভিযানটি পৌর নাগরিকবৃন্দের সেই আবেগ ও অনুভূতিকে নিঃসন্দেহে ব্যাপকভাবে আহত করেছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব ছিল পৌর নাগরিকবৃন্দকে সঠিক তথ্য দেয়ার। তারা অভিযান পরিচালনা করে কী পেলেন সেই খবর দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। তাঁরা যদি কোনো ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে থাকেন তাহলে সেটি প্রকাশ করা দায়িত্বশীলতারই অংশ। যেকোনো বিষয়ে গোপনীয়তা অবলম্বনের ফলে গুজব বিস্তৃত হয়। পৌরসভাকে কেন্দ্র করে এমন গুজব তৈরির সুযোগ দেয়া উচিত নয়।
মঙ্গলবারের অভিযান সম্পর্কে আমরা পুলিশ কর্তৃপক্ষ ও পৌর কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বিবৃতি কামনা করি। আমরা চাই না অপরাধ করে কেউ পার পেয়ে যান। আবার এও কাম্য নয় যে, নিরপরাধ কেউ অহেতুক হয়রানির শিকার হোক। অহেতুক অভিযান পরিচালনা করে এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে সেজন্য অভিযান পরিচালনাকারীদেরও জবাবদিহিতা বাঞ্ছনীয়। আবার সামান্যতম আইনবহির্ভূত কর্মকা-ে এই প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা কিংবা দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির অংশগ্রহণ থাকলে তাও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসা অপরিহার্য। অবাধ তথ্যের আদান-প্রদানই এক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান।