সুনামগঞ্জ প্রধান ডাকঘর, আমানতকারীদের জন্য কাউন্টার সংখ্যা বাড়ান

পোস্ট অফিসে এখন আমানতকারীদের সংখ্যা আগের চাইতে অনেক বেড়ে গেছে। বলা যেতে পারে প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে। পেনশনার ও পেনশনার ছাড়াও সাধারণ মানুষ এখন আগের চাইতে বেশি সঞ্চয় করেন। জমাকৃত অর্থ বিনিয়োগের ঝুঁকি এড়াতে অনেকে পোস্ট অফিসের বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিমগুলোতে অর্থ বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী। বহু মানুষ আছেন যারা পোস্ট অফিসে বিনিয়োজিত অর্থের মুনাফা দ্বারা সংসার পরিচালনা করেন। এই সঞ্চয়কারীরা প্রতিমাসে মুনাফার অর্থ উত্তোলন করতে পোস্ট অফিসে আসেন। সুনামগঞ্জ প্রধান ডাকঘরে বর্তমানে আমানতকারীদের সেবা দানের জন্য মাত্র একটি কাউন্টার চালু রাখা হয়েছে। একটি কাউন্টার ও একজন লোক দ্বারা সকল আমানতকারীদের সেবা দান করা বিশেষ দুরুহ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই নির্দিষ্ট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মহিলা ও বয়স্করা বিভিন্ন স্কিমের মুনাফা তুলতে কিংবা বিভিন্ন স্কিমের টাকা জমা করতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। অনেক সময় লাইনে দাঁড়ানো মহিলা ও বয়স্কদের অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা যায়। এই লোকগুলোকে কাজের জায়গায় একটু স্বস্তিদায়ক পরিবেশ দেয়া গেলে তাদের মুখ সন্তুষ্টিতে উদ্ভাসিত হবে। এই সন্তুষ্টি অমূল্য। যেকোনো প্রতিষ্ঠানই তার গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি দানের বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকে। পোস্ট অফিসে আগত আমানতকারীরা তাদের সেবা দানের জন্য কাউন্টার সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন নিজেদের মধ্যে কথোপকথনের সময়। কিন্তু তাদের কথা কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারায় দীর্ঘদিন যাবৎ এই পোস্ট অফিসে আমানতকারীদের কাউন্টার বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ও হাতে হাতে মোবাইল এসে যাওয়ার পর যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে বিপ্লব সংঘটিত হয় তার পরিণামে ডাকে চিঠি ছাড়ার অভ্যাস শূন্যের কোঠায় নেমে আসার পর হঠাৎ করেই দেশের পোস্ট অফিসগুলো একেবারে অকার্যকর হয়ে যাচ্ছিল। সরকার পোস্ট অফিসকে নানা ধরনের কাজে যুক্ত করে এখন সচল রাখার চেষ্টা করছেন। পোস্ট অফিসে ডাক ও পার্সেল ছাড়াও অনলাইনে মানি ট্র্যান্সফারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কুরিয়ারের কাছে পোস্ট অফিস মার খেয়েছিল সেই ধরনের কুরিয়ার ডাক ব্যবস্থা পোস্ট অফিসেও চালু করা হয়েছে। পোস্ট অফিস এখন তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে। এসবই পোস্ট অফিসকে স্থায়িত্ব দান তথা একে গণমুখী করার সরকারি প্রচেষ্টা। পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ আরেকটু সচেষ্ট হলেই তাদের সেবাগুলো দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করবে। আমাদের দেশের মানুষ এখনও বেসরকারি খাতের চাইতে সরকারি খাতের সেবা গ্রহণ করতে অধিক আগ্রহী। যেখানে সরকারি সেবা খাত নেই অথবা অলস সেখানেই কেবল মানুষ বেসরকারি সেবাদানকারীদের দ্বারস্ত হন। সরকারি খাতের চাইতে বেসরকারি খাতে সেবাদানের খরচ অনেক বেশি। তাই জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকারি সেবা খাতগুলোর অনেক বেশি আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এই জায়গায় দেশের প্রাচীন প্রতিষ্ঠান পোস্ট অফিস অনেক বেশি কাজ করতে পারে সাধারণ মানুষের জন্য।
সুনামগঞ্জ পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের আবেদন, আপনারা সীমিত জনবল নিয়ে মানুষকে যে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আপনারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এখানে সেবার মান বাড়ানোর ব্যাপারে নতুন সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটান। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে আমানতকারীদের সুবিধার জন্য অন্তত দুইটি কাউন্টার স্থাপনের ব্যবস্থা করুন। এতে করে জনমানুষের কাছে পোস্ট অফিসের ভাবমূর্তি অনেক বেশি উজ্জ্বল হবে। এই প্রক্রিয়ায় দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান এই পোস্ট অফিসও আরও দীর্ঘদিন টিকে থাকার একটি উপলক্ষ পাবে।