সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ৫০ হাজার মানুুষ পানিবন্দি

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলার আভ্যন্তরীন সমস্ত রাস্তা, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। উপজেলা সদর, কৃষ্ণনগর, মুক্তিখলা, মল্লিকপুর, শ্রীধরপুর, রাধানগর, রায়পুর, বাহাদুরপুর, চান্দারগাঁও, বাঘমারা, ভাটিপাড়া, দুর্গাপুর, শক্তিয়ারখলা, প্যারীনগর, বাগগাঁও, ধরেরপাড়, বিশ্বম্ভরপুর, সিরাজপুর সহ বিভিন্ন গ্রামে ৫০ হাজার মানুুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
জানা যায়, ২০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। চুলায় পানি উঠায় রান্নাবান্নার কাজে সমস্যা হচ্ছে। ক্ষতির শিকার হয়েছেন মৌসুমী সবজি চাষী ও মৎস্য চাষীরা।
বাঘমারা গ্রামের সেবা আচার্য্য বলেন, চুলায় পানি উঠে যাওয়া রান্না করতে পারছি না।
উপজেলা নতুনপাড়ার গ্রামের সোহেল মিয়া বলেন, বসত ঘরে কোমর পানি। রান্না বান্না বন্ধ, চিড়া-মুড়ি খেয়ে সময় পাড় করছি।
কৃষ্ণনগর গ্রামের কাজল বর্মন বলেন, বন্যার পানিতে বাড়ির উঠান, গরুর খাবার ঘর, পায়খানা তলিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আমরা গ্রামবাসী মারাত্মক সমস্যায় আছি। পানি যদি আরো বাড়ে তবে বাড়ি ঘরে আর থাকা যাবে না।
ঊন্যায় উপজেলার সদর বিশ^ম্ভরপুর বাজার কোমর সমান পানির নিচে। অন্যান্য হাট বাজারেও একই অবস্থা। বন্যার ফলে বিভিন্ন জাতের সাপ, জোঁক, পোকা মাকরের ভয় দেখা দিয়েছে। এছাড়া রাতের বেলা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভয়ানক অবস্থা বিরাজ করছে। গত শুক্রবার রাত থেকে রবিবার দুপুর (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যার ফলে বিদ্যুৎ লাইনের কিছু খুঁটি হেলে যাওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করছি।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণ, থানা প্রাঙ্গণ, উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণসহ সমস্ত অফিস পাড়ায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি রয়েছে। উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাস ভবন সহ সরকারি আবাসিক এলাকায় পানি উঠেছে। থানা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পানি উঠায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। খাদ্য গোদামের এলএসডি মো. নুরুল ইসলাম জানান, পানি বাড়ার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলা সরকারি খাদ্য গোদাম।
এনজিও সংস্থার প্রতিনিধি মো. নাজমুল হাসান বলেন, আমি এ উপজেলায় ৭ বছর যাবত চাকরি করছি। এবারের মতো এরকম বন্যা আগে দেখিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজ খবর রাখছি। বন্যায় কবলিতরা ৩২টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যায় আশ্রয়দের মাঝে রান্না খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া বন্যার্তদের জন্য শুকনো খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।