সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন

বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর বহুল প্রতিক্ষিত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কাজ পর্যায়ক্রমে অগ্রসর হচ্ছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণের মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) অনুমোদন হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ গত ১২ জুলাই মাস্টার প্ল্যানের অনুমোদন দেন। প্রধান স্থপতি কার্যালয়ের স্থপতি শাখা থেকে ডিজাইন করার পর তা অনুমোদন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এরপর ১৬ জুলাই পুনরায় প্রধান স্থপতির সুপারিশ করার পর মাস্টার প্লানটি গ্রহণ করেন সুনামগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। এখন ব্যয় নির্ধারণ ও প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলছে। এরপর আবার সেটি পাঠানো হবে অধিদপ্তরে। অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয় হয়ে সেটি একনেক সভায় উপস্থাপন হবে। একনেক সভায় অনুমোদনের পর শুরু হবে বাস্তবায়নের কাজ।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পশ্চিমপাশে ও মরা সুরমা নদীর পূর্ব তীরে (সড়ক ও নদীর মধ্যবর্তী জমিতে) পূর্ব নির্ধারিত মদনপুর এলাকায়ই সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মোট ২৯টি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এর ভেতরে থাকবে খেলার মাঠ ও পুকুর। নতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণে এটিকে মডেল হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি বাস্তবায়নের পর এর আদলে নির্মাণ করা হবে দেশের সকল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। ইতোমধ্যে ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যদিও জমির মালিকদের এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়নি। তবে মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ব্যয় নির্ধারণ ও প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য নির্মাণ করা হবে একটি হাসপাতাল ভবন, একটি একাডেমিক ভবন, একটি করে ছাত্র ও ছাত্রী নিবাস, একটি করে পুরুষ ও মহিলা ইন্টার্ন চিকিৎক ডরমেটরি, অবিবাহিত পুরুষ ও মহিলা চিকিৎসকদের জন্য একটি করে আবাসিক ভবন, স্টাফ নার্স ডরমেটরি, জরুরি সেবায় নিয়োজিত পুরুষ ও নারী কর্মচারীদের জন্য একটি করে ভবন, একটি নার্সিং কলেজ ভবন, নার্সিং শিক্ষার্থী নিবাস একটি, একটি মর্গ, ব্যায়ামাগার, মসজিদ, বিদ্যুত সাব স্টেশন, কাপড় ধোয়ার জন্য লন্ড্রি, অধ্যক্ষ ও পরিচালকের বাসভবন, বিভিন্ন আয়তনের ৬টি আবাসিক ভবন, পাবলিক টয়লেট, মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা ভবন, স্যুয়ারেজ বর্জ ব্যবস্থাপনা ভবন। হাসপাতাল ভবন ও একাডেমিক ভবনের মধ্যে একটি লিংক করিডোর স্থাপন করা হবে।
অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ও জেলা বিএমএ’র সাবেক সভাপতি ডা. আব্দুর নূর বলেন,‘সুনামগঞ্জে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান সাহেব আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। এটি বাস্তবায়ন হলে জেলাবাসী উন্নয়নের একধাপ এগিয়ে যাবে এবং জেলার অনেক শিক্ষার্থী এখানেই লেখাপড়ার সুযোগ পাবে।’
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ বলেন,‘সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি আলোর মুখ দেখছে এবং সবকিছুই দ্রুত হচ্ছে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের তরুণ শিল্পপতি শ্যামল রায় এলাকার সন্তান হিসেবে এসব কাজের পেছনে সময় দিচ্ছেন। অধিদপ্তর থেকে অবকাঠামো নির্মাণের মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন হয়েছে। অবকাঠামো প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলছে। দু’এক দিনের মধ্যেই তা হয়ে যাবে। এর পর একনেকে অনুমোদন হবে। এরপরপরই অবকাঠামো নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হবে। ’
প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের পক্ষে মেডিক্যাল কলেজ বাস্তবায়ন কাজের সমন্বয়ক সুনামগঞ্জের তরুণ শিল্পপতি শ্যামল রায় বলেন,‘ সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি হবে দেশের সর্বশেষ প্রযুক্তি ও আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান। এটি বাস্তবায়ন হলে জেলাবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে এবং হাওরপাড়ের লোকজন নিজেদের জেলায় সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি হাওর-নদী ও সড়কের মাঝে হওয়ায় এখানে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি পরিসেবাও পাবেন। আমি সুনামগঞ্জের সন্তান হিসেবে এর পেছনে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছি, যাতে দ্রুত স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয় এবং হাওরপাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার লোকজনের কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা সুনামগঞ্জেই নিশ্চিত হয়।’
জেলা গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগী প্রকৌশলী প্রসেনজিৎ পাল বলেন, ‘ ইতোমধ্যে ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মাস্টার প্ল্যান অনুমোদন হয়েছে। এখন অবকাঠামোর জন্য ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে। ডিপিপি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একনেকের সভায় পাঠানো হবে। একনেকে অনুমোদনের পর দরপত্র আহবান করা হবে, পাশাপাশি জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।’
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন,‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলছেন। তিনি যোগাযোগ ও শিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য তিনি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছেন। হাওরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।’