সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজ সংরক্ষণে নেই

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের গত প্রায় ৪০ বছরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাগজ কলেজের সংরক্ষণে নেই। কেবল টেবুলেশন সীট আছে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি সংক্রান্ত কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কলেজ অধ্যক্ষ বলেছেন, তিনি নিজেও এই কলেজে এর আগে ২৩ বছর চাকুরি করেছেন, তাঁর ফাইলও কলেজের সংরক্ষণে নেই।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রত্যেক ব্যাচের শিক্ষার্থীদের তালিকা খুঁজে বের করার জন্য কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কলেজে গিয়ে ১৯৬৫ সালের পরের কোন ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য পাচ্ছেন না। কেবল টেবুলেশন সীট পাওয়া যাচ্ছে।
কলেজের একজন শিক্ষক জানান, অনেক শিক্ষক এই কলেজে চাকুরি করে গেছেন, তাঁদের ব্যক্তিগত ফাইলও কলেজের সংরক্ষণে নেই। প্রাক্তন অধ্যক্ষ ননী গোপাল দাসের ব্যক্তিগত ফাইলও পাওয়া যাচ্ছে না।
কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সংস্কৃতি কর্মী জাহাঙ্গীর আলম জানালেন, ১৯৯৫ সালে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন তাঁরা। ১৯৯৫-৯৬ ইংরেজির ইন্টারমিডিয়েট ব্যাচের তালিকা নেবার জন্য জন্য কলেজে গিয়েছিলেন তিনি। তালিকা দিতে পারেন নি দায়িত্বশীলরা। পরে কলেজ অধ্যক্ষ’এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৬৫ সালের পরের অনেক কাগজই পাওয়া যাচ্ছে না।
কলেজের বর্তমান প্রধান সহকারী জয়নাল আবেদীন জানালেন, গত বছরের ১১ অক্টোবর সাবেক প্রধান সহকারী তৈয়ব আলী বিদায় নেবার পর তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পুরাতন কাগজের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ম্যাডাম আগে এখানে চাকুরি করেছেন, তাঁর পুরাতন ফাইলও খুঁজে পাওয়া যায় নি।
অবসর প্রাপ্ত প্রধান সহকারী তৈয়ব আলী অসুস্থ, ভালো করে কথা বলতে পারছেন না। এজন্য তার কাছ থেকে এই বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি।
কলেজর একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষ নুরুল গণি যখন দায়িত্ব পালন করেন, ওই সময় কাগজ-পত্র পুড়ানো হয়েছিল। এই পুড়ানো কাগজের সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পুড়ানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ বলেন, ১৯৬৫ সালের পরের টেবুলেশন সীট ছাড়া ভীর্ত সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র কলেজের সংরক্ষণে নেই। শিক্ষকদের অনেক ফাইলও পাওয়া যাচ্ছে না। ননী গোপাল স্যারের ফাইলও খুঁজে পাওয়া যায় নি। কেবল উপাধ্যক্ষ হিসাবে একটি অর্ডার ছাড়া তাঁর (ননী গোপাল স্যারের) আর কোন কাগজ পাওয়া যায় নি। আমি ২৩ বছর এই কলেজে চাকুরি করেছি, মাঝখানে অন্য কলেজে ছিলাম। ২০১৮’এর ১০ জুন আবার অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেছি। আমার নিজের ফাইলও কলেজের সংরক্ষণে নেই। শুনেছি ২০০৪’এর বন্যায় কিছু নষ্ট হয়েছে, কিছু উইপোকায় খেয়েছে। কিছু হয়তো পুড়ানোও হয়েছে।