সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ককে অবৈধ দখলমুক্ত করা হোক

সড়কের দুইপাশের সরকারি জায়গা দখল করে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি দৃশ্য। সরকারি সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করে ব্যবহার করার মত বুকের পাটাওয়ালা মানুষের অভাব নেই এ দেশে। শুধু সড়কের সরকারি জায়গা কেন, যেকোন সম্পদের গায়ে যখন ‘সরকারি’ লেবেলটি আঁটা থাকে তখন মিষ্টির উপর যেমন পিঁপড়া ঝাঁপিয়ে পড়ে তেমন করেই কিছু দখলবাজ জাঁকিয়ে বসেন। এদের দমন করার মত যেন কেউ নেই। এরা দহরম মহরম করে বসে আছে দমনকারীদের সাথে। তাই আমাদের দেশের সড়ক ও রেলের প্রচুর জায়গা অথবা সরকারি খাল দখল করে বসে আছে অনেকে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী গড়ে উঠা কিশোর শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সড়ককে নিরাপদ রাখার নানাবিধ অন্তরায়ের একটি এই সড়কের জায়গা দখলের উপর দৃষ্টি পড়েছে দায়িত্বশীল মহলের। অন্তত সুনামগঞ্জে বেশ ভালভাবেই পড়েছে, বুঝা যায় মঙ্গলবারের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের প্রধান সংবাদটি পড়ে। ‘সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে ৪০০ অবৈধ স্থাপনা/উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি চলছে’ শিরোনামের ওই সংবাদে জেলার পুলিশ সুপারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সকল সড়ক দখলমুক্ত রাখতে হবে। ওই সংবাদে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে ৪০০ অবৈধ স্থাপনা থাকার কথা বলা হয়েছে। এরকম সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়টি যদিও অনুমান নির্ভর তারপরেও এই সংখ্যা ৪০০ এর বেশি বৈ কম হওয়ার কথা নয়। জেলা প্রশাসক এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অনুরোধ জানানোর কথা বলেছেন। দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করেছেন।
সড়কের পাশে এরকম অবৈধ স্থাপনার কারণে মূল সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে। যানবাহন রাস্তার পাশে সরার মত জায়গা পায় না। এ কারণে যানজট তৈরি সহ দুর্ঘটনার আশংকা তৈরি হয়। বলা বাহুল্য সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের অনেক অংশ অপ্রশস্ত। দখলদারিত্বের কারণে এই অপ্রশস্ত সড়ক আরও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। এই সড়কের পাগলাবাজার, জাউয়াবাজার, নীলপুর বাজার ইত্যাদি স্থানে রাস্তা দখল করে দোকান পাট বসানোর কারণে যানবাহন চলাচলে যে অসুবিধা হয় তা যেকোন লোক মাত্রই জানেন। আঞ্চলিক এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এই জেলার একমাত্র বহির্গামী সড়ক। এই সড়ককে নিরাপদ ও যাবতীয় সমস্যা মুক্ত রাখা অতীব জরুরি। এই লক্ষ্যে সড়কে যত অবৈধ দখলদারিত্ব রয়েছে অবিলম্বে তার উচ্ছেদ কামনা করেন জেলাবাসী।
অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, দখল উচ্ছেদ পরিচালনার অল্প দিন পরই আবার আগের মত দখলবাজী শুরু হয়ে যায়। অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয় না। কেউই এরকম ফলহীন দখল উচ্ছেদ চান না। দখল উচ্ছেদের বিষয়টিকে স্থায়ী রাখার লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক তদারকি ও নজরদারির ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। একটি সড়কে এরকম তদারকি চালু রাখা বিশেষ কঠিন কোন কাজ নয়। দখলকারীরা যদি এই বার্তা পেয়ে যান যে, পুনরায় দখল করতে আসলে আবারও দখল উচ্ছেদসহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে তখন আর দ্বিতীয়বার তারা ও পথ মাড়াবেন না। এই বার্তা দেয়া তখনই সম্ভব হবে যখন অবৈধ দখলদারিত্বের সুযোগ দিয়ে কেউ কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা গ্রহণের চিন্তা থেকে বিরত থাকবেন। অর্থাৎ কথা একটাই, দখল উচ্ছেদ ও একে স্থায়ী রূপে রাখতে সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই দুর্নীতি মুক্ত থাকতে হবে।