সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে ৪০০ অবৈধ স্থাপনা

বিন্দু তালুকদার
ঢাকায় গাড়ি চাপায় দুইজন শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে এক সপ্তাহ আন্দোলন করেছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সড়কে শৃংখলা ফেরাতে ট্রাফিক সপ্তাহ পালিত হচ্ছে।
তবে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ সড়কের দাবির পাশাপাশি সড়ককেও নিরাপদ রাখার বিষয়টি জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাগণসহ দায়িত্বশীলরা। গ্রামীণ সড়কসহ আঞ্চলিক সড়কে শত শত অবৈধ স্থাপনাও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
সোমবার সুনামগঞ্জ শহরে ট্রাফিক সপ্তাহের র‌্যালি ও আলোচনা শেষে পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে জানিয়েছেন, নিরাপদ সড়ক রাখার দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন যৌক্তিক। তাদের আন্দোলন সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে সবাইকে জাগিয়ে তোলেছে। তবে যাত্রীদের সুবিধার্থে শুধু নিরাপদ সড়কের দাবি জানালেই হবে না, পাশাপাশি সড়ককেও নিরাপদ রাখতে হবে। সমাজের সবাইকে আরও বেশী সচেতন হতে হবে। সকল সড়ক দখলমুক্ত রাখতে হবে, ট্রাফিক আইন মানতে হবে। তাহলেই কেবল নিরাপদ সড়কের দাবি বাস্তবায়ন হবে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন,‘সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক সড়ক মাত্র ৪৬ কিলোমিটার। কিন্তু এই অংশে ৪০০ টিরও বেশী অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনার মধ্যে অধিকাংশই দোকানপাট। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আমরা জেলা আইনশৃংখলা সভায় উত্থাপন করেছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলে সড়ক প্রশস্ত হবে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।’
জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের সকল অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সড়কের উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদে সওজ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন,‘সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবৈধ স্থাপনার কারণে সড়ক সরু হয়েছে। সরু রাস্তার কারণে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত দুই মাস আগে সওজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা আইনশৃংখলা কমিটির রেজুলেশনের কপিও পাঠানো হয়েছে। ’
রফিক মিয়া নামের এক বাস চালক বলেন,‘সড়কে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সবাই আমাদেরকে এক তরফা দায়ী করেন। কিন্তু মূল সড়কের উপর শত শত দোকানপাট তৈরি করে সড়ক দখল করে রাখার বিষয়ে কেউ জোরে কথা বলে না। সড়কের উপর দোকান করার কারণে আসা-যাওয়ার সময় পাগলা, জাউয়া ও গোবিন্দগঞ্জে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হয়।’
সুনামগঞ্জ সদর শহরতলীর লালপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী হেলাল আহমদ হেলাল বলেন,‘বর্তমান সরকার শত শত কোটি ব্যয় করে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পুরাতন সকল সরু ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে প্রশস্ত করেছে। কিন্তু কয়েকটি বাজারের অবৈধ দোকানপাটের কারণে সড়ক যানজট মুক্ত হচ্ছে না। নীলপুর, শান্তিগঞ্জ, পাগলা, জাউয়া, ধারন ও গোবিন্দগঞ্জ বাজারের স্থাপনা উচ্ছেদ করে পৃথক লেন না করলে যাত্রীরা কোন সুফল পাবে না।’
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (ছাতক উপ বিভাগ) এএসএম ছাইফুল ইসলাম দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে আমার কথা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করব।’