সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক, সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার না হলে ঈদে ঘরমুখোরা দুর্ভোগে পড়বে

বিশেষ প্রতিনিধি
সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার না হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষ সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের স্থানে স্থানে দুর্ভোগে পড়তে পারেন। গত কয়েকদিন ধরেই এই পথ দিয়ে আসা যানবাহন এক ঘণ্টার পথ অতিক্রিম করেছে তিন ঘণ্টায়। প্রতিদিনই এই ঝট বাড়ছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অন্তত ১০ বার এই সড়কের জাউয়াবাজার, গোবিন্দগঞ্জ ও ডাবর এলাকায় যানবাহনের ঝট লেগেছিল।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের সুনামগঞ্জ অংশের ৪৬ কিলোমিটার অংশ ৬ ফুট প্রশস্তকরণ এবং ২৪ ফুট সড়ক নতুন করে ভিটুমিনের সড়ক (গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট, ডাবর ও দিরাই সড়ক মোড় আরসিসি ঢালাই) করার কাজ শুরু হয় গত বছরের জুলাই মাসে। ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করার কথা ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে।
সুনামগঞ্জ থেকে সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী একমাত্র সড়কের উন্নয়ন কাজ চলাকালে জাউয়াবাজার, গোবিন্দগঞ্জ, ডাবর অংশে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। এমনও হয় শত শত যানবাহন এই অংশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা থাকে। বৃহস্পতিবারও এই তিন স্থানেই যাত্রীদের আটকা পড়তে হয়েছে।
সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ আসতে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লেগেছে এমন অসংখ্য যাত্রী এই প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে বলেছেন,‘বিষয়টি গণমাধ্যমে না আসলে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় সিলেট থেকে প্রাইভেট কার নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় সুনামগঞ্জে পৌঁছান ডা. বিপুল ঘোষ। কেন এমন হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘জাউয়া ও ডাবরে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা যানঝটে আটকা পড়েছিলাম।’ তিনি জানালেন, উন্নয়ন কাজ চলা অবস্থায় কিছুটা কষ্ট হয়তো পথচারীদের করাই লাগবে। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, পথের শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং সড়কের কাজ যারা করছেন, তাদের গাফিলতিও রয়েছে।
সড়কের এই অংশের দেখভালকারী কর্মকর্তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানালেন, তিনি নিজেও বৃহস্পতিবার সড়কের ওই অংশে ২ ঘণ্টা আটকা ছিলেন।
সাইফুল ইসলাম জানালেন. সড়কের গোবিন্দগঞ্জে মজবুথ আরসিসি পাকা সড়ক ১০.৩ মিটার (প্রায় ৩৬ ফুট) প্রশস্তকরণ হবে, জাউয়াবাজারে এক কিলোমিটার অংশ ঠিক একইভাবে কাজ হবে, ডাবর, পাগলা ও শান্তিগঞ্জে অংশে একইভাবে প্রশস্ত মজবুথ আরসিসি সড়ক হবে। এই কাজ করতে তারা অর্ধেক সড়ক (প্রায় ১০ ফুট) যানবাহন চলাচলের জন্য খোলা রেখেছেন, বাকী অংশে কাজ হচ্ছে। যানবাহন শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে না চললেই এখানে যানঝট সৃষ্টি হবে। ঈদের আগে-পরে যানবাহন চলাচল বাড়বে, শৃঙ্খলা না থাকলে ওই সময় যানঝট হতেই পারে। একটি বাস চলাচলের সড়কে শৃঙ্খলা কোনভাবে বিঘিœত হলে ঝট লাগাটাই স্বাভাবিক।’
ট্রাফিক পুলিশের এই অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্মল দেব নাথ বলেন,‘সড়কে এমনভাবে কাজ হচ্ছে, একটা বাস গেলে, আরেকটা বাস যাবার সুযোগ নেই। একটা গাছ কাটার সময় ১৫-২০ মিনিট যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ওই সময়েও অনেক যানবাহন আটকা পড়ে যায়। সড়কের কোথাও গর্ত বা ভাঙন সৃষ্টি হলে সড়ক ও জনপথের দায়িত্বশীলদের বলেও কাজ করানো যায় না। ঠিকাদারের লোকজনকে বললে, বলে এই কাজের দায়িত্ব তাদের নয়। তাদের আচরণে মনে হচ্ছে তারা কোনভাবে কাজ শেষ করে যেতে চায়, যানবাহন কীভাবে চলবে, এই চিন্তা তাদের নয়। এভাবে হলে যানঝট লাগতেই পারে। ট্রাফিকের কাজ ট্রাফিক কন্ট্রোল করা, সড়ক মেরামত করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে রাখা সড়ক ও জনপথের কাজ তারা সেটি করতে হবে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিলেটের বিভাগীয় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমিন বলেন,‘ঈদকে সামনে রেখে যানবাহন বাড়বে সকল সড়কেই। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যেহেতু উন্নয়ন কাজ চলছে, কিছুটা কষ্ট সইতে হবে সকলকেই। আমরা সড়কে যাতে কোন গর্ত বা খানা-খন্দক না হয় সেটি খেওয়াল রাখবো। কিন্তু পরিবহনের শৃঙ্খলা ট্রাফিক পুলিশকেই রাখতে হবে।’