সুনামগঞ্জ-হালুয়ারঘাট সড়কে ভাঙন, মানুষের চরম ভোগান্তি

আকরাম উদ্দিন
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুনামগঞ্জ শহরের হালুয়ারঘাট সড়কের নবীনগরের শেষ প্রান্তের অংশ ভেঙে গেছে। এতে সুরমার উত্তরপাড়ের ৩ ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শহরে আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এই সড়কের ভাঙন এলাকা থেকে দুলন মিয়ার বাসা পর্যন্ত একাধিক স্থানে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে সড়কের আরও কয়েকটি স্থান।
শনিবার দুপুরে নবীনগরের বাসিন্দা আব্দুল কাদির ও মঞ্জুর আলী জানান, প্রথম দফা বন্যায় সড়কটি ভেঙে যায়নি। কিন্তু দ্বিতীয় দফা বন্যায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হঠাৎ সড়কটি ভেঙে গিয়ে আশপাশের একাধিক বাড়ি ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে সুরমার উত্তরপাড়ের মানুষের শহরের সাথে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই সড়ক ভাঙনের কারণে সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
প্রতিদিন হালুয়ারঘাট এলাকার সুরমা নদীর উপর ফেরি পারাপার হয়ে সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী এই সড়ক দিয়ে শহরে আসা-যাওয়া করে থাকেন। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় হালুয়ারঘাটের সেলু নৌকা (ইঞ্জিন চালিত ছোট নৌকা) দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে কিছু মানুষ শহরে আসা-যাওয়া করছেন। হালুয়ারঘাটের ইঞ্জিন চালিত নৌকা রয়েছে ১০টি। সব সময় চলাচল করে আসছে ৬টি। এখন সব নৌকা চলাচল করলেও মানুষ তাদের গন্তব্যে সঠিক সময়ে পৌঁছতে পারছেন না। কিন্তু যেসব সেলু নৌকা চলাচল করছে প্রায় সবগুলো ভাঙা ও নড়বড়ে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটারও আশংকা রয়েছে।
প্রথম দফা বন্যায় শহরের সাথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ইব্রাহীমপুর-সৈয়দপুর-আমপারা সড়ক ডুবে গিয়ে উত্তরপাড়ের মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে হালুয়ারঘাট থেকে সেলু নৌকা দিয়েই শহরে আসতে হয়েছে এইসব এলাকার মানুষ।
হালুয়ারঘাট বাজারের ব্যবসায়ী এরণ মিয়া বলেন,‘নবীনগরের সড়ক ভেঙে যাওয়ায় হালুয়ারঘাটের সেলু নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছেন। এতে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।’
সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুছ সাত্তার বলেন, আমার এলাকার কয়েক হাজার মানুষ নবীনগর সড়ক দিয়ে শহরে আসা-যাওয়া করত। এখন সড়ক ভেঙে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।