সুনামগঞ্জ হোটেল শ্রমিকদের স্মারক লিপি প্রদান

মহান মে দিবসে স্ব-বেতনে ছুটি, রমজান মাসে বিনা বেতনে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও ঈদ উৎসব বোনাস প্রদান এবং সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি ও ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রম আইন কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ে স্মারক লিপি দিয়েছে রেজিষ্ট্রার্ড ট্রেড ইউনিয়ন
সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৮৮৩।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি লিলু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক নীলোৎফল চন্দ্র দাস বিপ্লব, সহ সভাপতি মহিবুর রহমান, সংগঠনিক সম্পাদক সুমন মিয়া, প্রচার সম্পাদক সুরঞ্জিৎ দাস প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ স্মারক লিপিতে উল্লেখ করেন, মহান মে দিবস আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস সারাবিশ্বের শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্য ও সংহতি প্রকাশের দিন। মহান মে দিবস উপলক্ষে ১ মে সারাবিশ্বের শ্রমিক শ্রেণী ছুটি ভোগ করে থাকেন। বাংলাদেশেরও সর্বস্তরের সরকারীÑবেসরকারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা ছুটি ভোগ করে থাকেন। সুনামগঞ্জের হোটেল শ্রমিকরা মহান মে দিবসে স্ববেতনের ছুটির দাবিতে তাদের আইনসঙ্গত অধিকার বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপ-পরিচালক (শ্রম), উপ-মহাপরিদর্শক (শ্রম), চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি, ব্যবসায়ী সমিতি ও হোটেল মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের বার বার লিখিতভাবে আবেদন নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারী শ্রমিকরা দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, যার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এছাড়া শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের পর সরকার গত ১ মার্চ ২০১৭ তারিখে হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নি¤œতম মজুরির গেজেট (এসআরও নং ৩৮-আইন/২০১৭) প্রকাশ করেন, বর্তমান ঊর্দ্ধগতির বাজারদরে সরকার ঘোষিত মজুরিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন শ্রমিক ১০ দিনও চলতে পারবে না। তারপরও মালিকরা সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরি কার্যকর না করে বে-আইনীভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
শুধু তাই নয় বাংলাদেশ শ্রম আইন-এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় চাকুরীচ্যুতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ৪৫ দিনের গ্রাচ্যুয়েটি, ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থাতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১১ দিন উৎসব ছুটি ও উৎসব বোনাস প্রদানের আইন থাকলেও হোটেল শ্রমিকদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শ্রম আইনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ ও বাসস্থানের বিধান থাকলেও শ্রমিকরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে ও থাকতে বাধ্য হন। হোটেল রেস্টুরেন্ট মিস্টি বেকারী শ্রমিকরা দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহারে-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, যার কারণে হোটেল শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি