সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির গ্রুপিং চাঙা- হার-জিৎ পার্টিতে বিভক্ত নেতাকর্মীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর ও মধ্যনগর) আসনে সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে হার-জিৎ প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন ৩ মাস পরে জাতীয় নির্বাচন। এই মুহূর্তে দলের দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীদের পরস্পর বিরোধী অবস্থানে লাভবান হবে আওয়ামী লীগ। এই আসনের দুই উপজেলার কমিটি ১২ আগস্ট নতুন করে ঘোষণা হয় এবং সপ্তাহের মাথায় ১৯ আগস্ট কেন্দ্রের নির্দেশে বাতিল হয়। এই নিয়ে দুই উপজেলা বিএনপিতে হার-জিৎ গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। এরা পরস্পর বিরোধী কর্মসূচীও দিচ্ছে। নেতা-কর্মীরা মনে করছেন এই গ্রুপিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আগামী জাতীয় নির্বাচনে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটি গঠন হয় ২০১৬ সালে। জামালগঞ্জে কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক আফিন্দিকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল দলীয় নেতা আব্দুল মালেককে। তাহিরপুরে ঐ সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় দলীয় নেতা নুরুল ইসলাম ও রুহুল আমিনকে। এরা ৪ জনই স্থানীয় রাজনীতিতে সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের সমর্থক। তৎকালীন জেলা আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও প্রথম সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ঐ কমিটিগুলোর অনুমোদন দেন।
গত ১২ আগস্ট জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। নতুন কমিটির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী এবং সম্পাদক ঘোষণা করা হয় শাহ্ মো. শাহজাহানকে। তাহিরপুরে নুরুল ইসলামকে সভাপতি এবং জুনাব আলীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। জুনাব আলী ও মো. শাহজাহান তাহিরপুরের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সহসভাপতি আনিসুল হক’র সমর্থক। আনিসুল হক’এর সমর্থকরা রোববার বিক্ষোভ মিছিল করে তাহিরপুরে এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজির হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির একজন সহসভাপতি বলেছেন,‘দলীয় চেয়ারপার্সনের মুক্তির আন্দোলন এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলন চলছে। ৩ মাস পরে জাতীয় নির্বাচন, সেটিও দলের জন্য চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেই দুই উপজেলার কমিটি ঘোষণা হলো, আবার এক সপ্তাহের মাথায় বাতিলও হলো। এ কারণে জামালগঞ্জ ও তাহিরপুরে বিএনপি এখন ‘হারজিৎ পার্টিতে’ বিভক্ত। এই বিভক্তি চলবে নির্বাচন পর্যন্ত। দল নির্বাচনে গেলে প্রতিপক্ষ এই গ্রুপিং কাজে লাগাবে।’
জেলা বিএনপি’র সহসভাপতি আনিসুল হক বলেন,‘অনেক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সকলের মতামত নিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এখন ক্ষমতা জাহির করে যিনি স্থগিত করিয়েছেন তিনি সেটা মিটমাট করবেন। আমরা দলীয় চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠেই থাকবো।’
সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন বলেন,‘ দোষ-ত্রুটি ছাড়া হঠাৎ করে এভাবে কমিটি ভাঙলে প্রতিক্রিয়া হবেই। এমনিতেই বিগত কয়েক বছরে সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলে কোন নতুন সদস্য সংগ্রহ হয়নি। উল্টো ৩-৪ ভাগে বিভক্ত হয়েছে দল। আমি দ্বিধাবিভক্তি রোধ করতে চাই। জামালগঞ্জ-তাহিরপুরে নতুন ঘোষণা করা কমিটি বাতিল হওয়ায় যারা খুশি, এরা বিজয়ী মনোভাব দেখালে দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে না। সকলে মিলে মিশেই দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে।’
জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘বর্তমান সময়ে দল ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। তাহিরপুর-জামালগঞ্জের কমিটির বিষয়ে সৃষ্ট সমস্যা দ্রুত সমাধান করে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করবো আমরা।’ সব বিষয়ে হার-জিৎ খোঁজা ভাল নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।