সুযোগ নিচ্ছেন অসৎ ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার
নভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। পেঁয়াজ, চিনি ও তেলের মূল্য তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদা ভোজ্য পণ্যের দাম বাড়ার জন্য দায়ী বলছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার বাজার ঘুরে জানা যায়, পেঁয়াজ সর্বনি¤œ ৫৫ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি চিনি ৬০ থেকে দাম বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফ্রেশ সোয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে দাম বেড়ে ১১০ টাকা ও সরিষার তেল ৫০০ গ্রামের বোতল ১১৫ থেকে বেড়ে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, পেঁয়াজ ছাড়া অন্যান্য ভোজ্য সামগ্রী সকল দোকানে একই দাম। তবে পেঁয়াজের দাম একেক দোকানে একেক রকম। সুনামগঞ্জের পুরাতন জেল রোডে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। ওয়েজখালী বাজারে কেজি প্রতি ৮০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। তবে প্রতি দোকানেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এক সাথে ৪ কেজি, ৫ কেজি পেঁয়াজ কিনছেন ক্রেতারা। কেউ কেউ আরো বেশি কেনার চেষ্টা করছেন।
রঙ্গারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, শুনছি করোনা ভাইরাসের কারণে সব বন্ধ হয়ে যাবে। তাই একসাথে ৫ কেজি পেঁয়াজ নিয়েছি। যাতে পরে কোনো সমস্যা না হয়।
ওয়েজখালীর বাসিন্দা ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা থেকে এখন ৮০ টাকা। ক্রেতাদের কারণে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। সবাই করোনা ভাইরাসের ভয়ে একসাথে অনেক পেঁয়াজ নিচ্ছেন। যেখানে এই সংকটে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিৎ সেখানে ব্যবসায়ীরাও অতিমুনাফা তুলছেন।
জগন্নাথ বাড়ী’র দোকানী সুজিত রায় বলেন, আমরা কি করবো। ক্রেতারা বিভিন্ন অজুহাতে বেশি বেশি পেঁয়াজ নিচ্ছে। কেউ বলছে ছেলের মুসলমানি করাবে, কেউ বলছেন বাড়ীতে মেহমান এসেছেন। সেসব অনুরোধে অতিরিক্ত পেঁয়াজ বিক্রি করছি। এসময় সুজিত রায়কে ৫ কেজি পেঁয়াজ একসাথে বিক্রি করতে দেখা যায়।
জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা আব্দুল খালেক খান বলেন, আমি সকাল থেকে বাজারে ছিলাম। তখন অসিমের দোকানে পাইকারী ও খুচরা ক্রেতারা ভিড় করেছিলো। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আনি। বলে এসেছি, দোকানে বিক্রির জন্য আধা বস্তা ও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে ১ কেজি করে বিক্রি করতে। আমরা সব সময়ই বাজার মনিটরিং’এ রয়েছি। অস্বাভাবিক কিছু হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তার এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন প্রয়োজনীয় সবকিছুই করছেন।