সুরক্ষিত থাকতে হলে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। করোনাভাইরাসে শুক্রবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ২৭০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশী ৯৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়। আক্রান্তের সংখ্যায় ২য় স্থানে রয়েছে ছাতক উপজেলা। অন্যান্য উপজেলায় আক্রান্তের গতি কিছুটা কম হলেও প্রতিদিনই রোগী বাড়ছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণে ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রাণ হারিয়েছেন ২ জন। দুইজনই ছাতক উপজেলার। এর বিপরীতে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭৬ জন।
শুক্রবার দুইটি ল্যাবে একদিনে ১০০ টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হন ২৩ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার প্রায় ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। এদিকে সুনামগঞ্জ জেলায় শনিবার পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯ শ ৭৮ জনের। শুক্রবার পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৬ শ ৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২৭০ জন। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
গত ১২ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজাওে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। ৪৩ তম দিনে অর্থাৎ গত ২৫ মে আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭ জনে। এরপর গত ২৭ মে ৬ জন, ২৮ মে ১৪ জন, ২৯ মে ১৭ জন, ৩১ মে ২১ জন, ১ জুন ৯ জন, ২ জুন ৩৯ জন, ৩ জুন ৬ জন, ৪ জুন ২৮ জন, ৫ জুন ২৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। ২৬ মে ও ৩০ মে দুই দিন নমুনা পরীক্ষায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়নি। অর্থাৎ শেষ মাত্র ১১ দিনে করোনায় আক্রান্ত
হন ১৬৩ জন। প্রথম ৪৩ দিনে গড়ে প্রতিদিন আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২.৪৮ জন। সেখানে শেষ ১১ দিনে প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৪.৮১ জন। আর এতেই করোনায় আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা পৌঁছে যায় ২৭০ জনে। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাড়ছে।
এদিকে গত শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জে আরও ২২ জনের করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ জন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার। এছাড়াও দোয়ারাবাজার উপজেলার ৫ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ৩ জন এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ২ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ওই ২২ জনের রিপোর্ট করোনা পজেটিভ আসে।
শাবির জিইবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জিয়াউল ফারুক জয় জানান, শুক্রবার তাদের ল্যাবে সুনামগঞ্জের ৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এদের মধ্যে ২২ জনের রিপোর্ট করোনা পজেটিভ এসেছে। এছাড়াও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষায় ধর্মপাশায় আরও একজন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। গত বুধবার ১৭টি নমুনা পরীক্ষা করে একজনের করোনা পজেটিভ আসে।
শুক্রবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯৪ জন, ছাতক উপজেলায় ৫১ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২৪ জন, শাল্লা উপজেলায় ১১ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৮ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ১৩ জন, দিরাই উপজেলায় ৭ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ১৪ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ১৭ জন, ধর্মপাশা উপজেলায় ১৭ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে, সংক্রমণের এই উর্ধ্বগতির সময়ে লকডাউন শিথিল করায় রাস্তায় যানজট ও লোক সমাগম বেড়েছে। মানুষ পরস্পরের সংস্পর্শে আসছেন। এভাবে ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই সবাইকে সুরক্ষিত থাকতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রশমনে ঘরে অবস্থান করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যেতে হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ঘরে প্রবেশ করে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান-পানি দিয়ে বারবার হাত ধোয়া এবং কোয়ারেন্টাইনের শর্ত মেনে চলতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে ঘরে অবস্থান করতে হবে। অন্যথায় সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
কোভিড ১৯ পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার জেলা প্রশাসনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন করে আরোগ্য লাভ করেছেন ২ জন, আইসোলেসনে গেছেন ২০ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন মোট ১৯২ জন।
এদিকে শনিবার শাবির ল্যাবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য নমুনা পরীক্ষা বন্ধ ছিল। এজন্য নমুনা পরীক্ষা হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সহকারি অধ্যাপক জিয়াউল ফারুক জয়।