সুরঞ্জিতের সমাবেশে গ্রেনেড বিস্ফোরণে জড়িত থাকার দাবি-আরিফ ও জি.কে. গৌছকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

বিশেষ প্রতিনিধি
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক ও হবিগঞ্জ পৌরসভার বরখাস্তকৃত মেয়র জিকে গৌছকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপি’র সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী সিআইডি কর্মকর্তা। আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট দিরাইয়ের আদালতে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি বসু দত্ত চাকমা বুধবার বিকালে এই আবেদন করেছেন।
জানা যায়, আদালতে করা আবেদনে বসু দত্ত চাকমা উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালের ২১ শে জুন দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায়  গ্রেনেড হামলার ঘটনায় প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল হাওরের জনপদ। এই ঘটনায় অল্পের জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রাণে বেঁচে গেলেও নিহত হন যুবলীগ কর্মী ওয়াহিদ মিয়া। আহত হন অর্ধশত লোক। এই গ্রেনেড হামলায় আরিফুল হক ও জিকে গৌছ জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে তাদেরকে ঐ মামলায় (নম্বর ৪৭/২০০৪) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
আদালত এই আবেদনটির শুনানীর দিন ধার্য  করেছেন ২৮ জুলাই বৃহস্পতিবার।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুনামগঞ্জের নেতা অ্যাড. আব্দুল হক বলেন, ‘সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের ২০০৪’এর ২১ জুনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আরিফুল হক ও জিকে গৌছ যুক্ত ছিলেন দাবি করে তাদেরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত এই বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার ২৮ জুলাই শুনানীর দিন ধার্য করেছেন, আমরা শুনানীতে আসামী পক্ষের হয়ে অংশ নেব’।
সিআইডি’র এএসপি বসু দত্ত চাকমা বলেন,‘এই দুজনকেই এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে, এর বেশি তদন্তাধীন মামলার বিষয়ে বলা যাচ্ছে না’।
প্রসঙ্গত. ২০০৪ সালে ২১ জুন দিরাই বাজারস্থ আখড়া পয়েন্টে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় যুবলীগ কর্মী ওয়াহিদ নিহত হন। আহত হয়েছিলেন প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি। গ্রেনেড হামলার সময় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি। এছাড়া স্পিøন্টারের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল আহমদ ও সিরাজ  উদদৌলাসহ অনেকে। আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলার সাকিতপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি প্রভাকর চৌধুরী, রফিনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক ও রব মিয়া ইতিমধ্যে মারা গেছেন।