সেই আফজালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
জগন্নাথপুরের রহস্যজনক চরিত্রের তরুণ সাদিকুর রহমান আফজালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হবিগঞ্জের নবিগঞ্জ উপজেলার জামারগাঁও থেকে পুলিশ মঙ্গলবার ভোরে তাকে আটক করে। বিকাল পাঁচ টায় সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এহসান শাহ্ আফজলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে এ প্রতিবেদককে জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের দিঘলবাক এলাকায় আফজালের বাড়ি। সিলেটের পাঠানটুলার জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র সে। আট বছর আগে সিলেট মহানগর ইউনিটের ছাত্র শিবিরের সাথী সদস্য ছিল সে। ২০২০ এর নভেম্বরে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ নারী নির্যাতন মামলায় তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। এর আগে ২০১৮ সালে সিলেটের এমসি কলেজের পাশের আলুরতল থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয় আফজল। দিঘলবাকের আখলাকুর রহমানের ছেলে আফজল ছয় ভাইয়ের মধ্যে বড় হলেও বেকার সময় কাটাতো সে। পরিবারের সকলে সিলেটে থাকলেও বেশিরভাগ সময় আফজাল প্রত্যন্ত এলাকার দিঘলবাকের গ্রামের বাড়িতে থাকতো। তার কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এটি গ্রামের সকলে জানলেও ভয়ে কেউই মুখ খুলতো না।
গেল শুক্রবার তার দিঘলবাকের বাড়িতে জগন্নাথপুর থানা পুলিশের কয়েকজন সদস্য একটি মামলার সমন নিয়ে গেলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় সে। এসময় তার রিভলবারও ছিল বলে জানান গ্রামের বাসিন্দারা। পুলিশ পরে তার বসতঘরে ঢুকে বিস্ফোরক দ্রব্য দেখতে পায়।
বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর রোববার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর বিস্ফোরণ নিস্ক্রিয়করণ দল, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা হয় আফজালের বাড়িতে। রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের দেয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আফজলের বাড়ি থেকে বিষ্ফোরক তৈরির সরঞ্জামাদি ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর থেকে আফজলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই বাড়ির আশপাশে কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না।
রোববার রাতে সিলেটের পীর মহল্লা এলাকা থেকে আফজলের বাবা আখলাকুর রহমান (৭০) এবং তার ছোট ছেলে আমজাদুর রহমান (২২) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার নবীগঞ্জের জামারগাঁও থেকে আফজলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এহসান শাহ্ মঙ্গলবার বিকালে আফজলকে আটক করার সত্যতা স্বীকার করে ফোনে জানান, আফজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে তাকে জিজ্ঞসাবাদ করা হচ্ছে। সকল তথ্যই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানানো হবে।