সেই ঠিকাদারের কার্যাদেশ ও জামানত বাতিল করলো প্রশাসন

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের খবরে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে ধর্মপাশায় বীরনিবাস নির্মাণ কাজে অনিয়মের সাথে জড়িত সেই ঠিকাদার মেসার্স জব্বার বিল্ডার্সের চুক্তিপত্রসহ কার্যাদেশ ও জামানত বাতিল করেছে প্রশাসন। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বীরনিবাস নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ১ কোটি ২০ লাখ ৫৫৯ টাকা ব্যয়ে ৯টি বীর নিবাস নির্মাণের কাজ পেয়েছিল মেসার্স জব্বার বিল্ডার্স। কিন্তু কাজ করতে দেখা যায় চুন্নু মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে। কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী এখনও ৪০ ভাগ কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদার। এদিকে চুন্নু কাজের শুরু থেকে নি¤œমাণের ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে কাজ করায় মোদাহরপুর গ্রামের উপকারভোগী প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়ার স্ত্রী মোছা. আমিনা ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ওমর ফারুকের ছেলে হাবিবে দুজাহান ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন। ইউএনও দুই দুইবার কাজ পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান। কিন্তু অভিযোগ করার কারণে চুন্নু গত ২৯ মার্চ থেকে ওই দুটি বীরনিবাস কাজ বন্ধ করে দেয়। গত ১ সেপ্টেম্বর হাবিবে দুজাহান উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউএনওকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলেও সময়মতো তদন্ত হয়নি। এমনকি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি প্রশাসন। এদিকে ঠিকাদারকে একাধিকবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকজ করা হলেও তার জবাব দেয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর সুনামগঞ্জের খবরে ‘ঠিকাদারে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন’- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
অভিযোগকারী হাবিবে দুজাহান বলেন, ‘অবশেষে ঠিকদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আশা রাখি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির হাসান বলেন, ‘বীরনিবাসের অবশিষ্ট কাজ পুনরায় টেন্ডার করে প্রাপ্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’