সেই সেতুর ঢালাইয়ে বাঁশ ব্যবহারের প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় একটি সেতুর নির্মাণ কাজে ঢালাইয়ের ভিতর রড়ের সঙ্গে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি তদন্ত গঠিত। তবে সেতুর গার্ড ওয়ালে ৮-১০ টি বাঁশের টুকরা চোঙ্গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো সেতুর মূল কাঠামোতে নয় এবং এ কারণে সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না বলে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে মত দিয়েছে।
রোববার সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই সেতুর ঢালাইয়ে রডের সঙ্গে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগের সংবাদ
প্রকাশিত হয়। পরে জেলা প্রশাসক তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের হাসকুঁড়ি-বীরগাঁও সড়কে গত বছর প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই গ্রামীণ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সেতুর একটি গার্ডওয়ালে কয়েকটি বাঁশের টুকরা দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম গত ২৮ এপ্রিল তদন্ত কমিটি করে দেন। কমিটির সদস্যরা ছিলেন সুনামগঞ্জে স্থানীয় সরকার বিভাগে উপপরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আহমদ এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হো. হারুন অর রশিদ। গত ২৯ এপ্রিল সরেজমিন তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত কমিটি তাঁদের প্রতিবেদন দিয়েছেন।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেতুর আরসিসি ঢালাইয়ে রডের সঙ্গে কোনো বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি। সেতুতে ডিজাইন অনুযায়ী রড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সেতুর একপাশের সংযোগ সড়কের গার্ডওয়ালে শাটারিং আটকানোর জন্য আড়াআড়িভাবে পাইপ হিসেবে কয়েকটি বাঁশের চোঙ্গা ব্যবহার করা হয়েছে। এসব কাজে পিভিসি পাইপ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পিভিসি পাইপের সঙ্গে ৮-১০ টুকরা বাঁশ ব্যবহৃত হয়েছে। যেগুলো লম্বায় ৮-১০ ইঞ্চি হবে। বন্যার সময় ঐ স্থানে ঢালাইয়ের কাজ হওয়ায় তখন বাঁশের টুকরাগুলো আর বের করা হয়নি। এ কারণে সেখানে সিমেন্ট উঠে যায় এবং ঢালাই কিছুটা দুর্বল হয়েছে। তবে সেতুতে কোনো ফাটল দেখতে পাননি তারা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এলাকাবাসী শুরু থেকেই নি¤œমানের কাজের বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন বলে তাঁদের জানিয়েছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তখন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাহাদাৎ হোসেন বলেছেন,‘আমি শুরু থেকেই বলেছিলাম, যখন ওই স্থানে ঢালাই দেওয়া হয়, তখন বন্যা ছিল। তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ঠিকাদার শাটারিং আটকানোর জন্য প্লাস্টিকের পাইপের বদলে কয়েকটি বাঁশের টুকরা চোঙ্গা হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তবে এটা উচিত হয়নি।’
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আহমদ বলেছেন,‘মূল সেতুর ঢালাইয়ে রডের সঙ্গে বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি। তবে গার্ডওয়ালে শাটারিং আটকানোর জন্য কয়েক টুকরা বাঁশের চোঙ্গা ব্যবহার করা হয়েছে সেটি আমরা দেখেছি। বন্যার সময় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ঠিকাদার সেটি করেছেন। আমরা যা পেয়েছি প্রতিবেদনে তাই দিয়েছি।’