সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আরও একধাপ এগিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

সু.খবর ডেস্ক
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‘জাতির পিতার যে স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা, সেই পথেই আমরা আরও একধাপ এগিয়েছি। তাই আজকে জাতির পিতার জন্মদিনে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের এই সুখবর আমাদের জন্য এক বিরাট সফলতা বলে আমি মনে করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমরা একধাপ পিছিয়ে পড়েছিলাম। আজকে, আমরা খবর পেয়েছি; আমরা পিছিয়ে পড়ে নেই। এই অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।’
শেখ হাসিনা শনিবার দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাষণকালে একথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সাধারণ নিয়মের ব্যাত্যয় ঘটিয়ে এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিশু প্রতিনিধি আরাফাত হোসেন। বিশিষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিশু ও মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, শিশুদের পক্ষ থেকে শিশু প্রিয়ন্তি সাহা পিউ স্বাগত বক্তব্য প্রদান করে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিশুরা যেন বিপথে না যায় সে বিষয়ে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তারা যেন জঙ্গি ও মাদকাসক্ত হয়ে না পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বড় হতে হবে। দেশের মানুষকে ভালবাসতে হবে। একদিন তোমরা দেশের কর্ণধার হবে। আমার মতো প্রধামন্ত্রী হতে পারবে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে বড় হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার ছোট ভাইয়ের নামে ‘শেখ রাসেল’ ডাকটিকিট ও বিশেষ খাম অবমুক্ত করেন। এরপর তিনি ‘আমাদের ছোট্ট রাসেল সোনা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
শিশু সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন, আবৃত্তি ও ৭ মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরে শিশু ও মহিলা অধিদপ্তরের উদ্যোগে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার ১শ’ দুস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান তিন বাহিনীর প্রধান, ঊর্ধ্বতন সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এসময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য হয়ে উঠেছে, কারণ এটি এলডিসি ব্লক থেকে বের হওয়ার জন্য প্রথমবারের মতো তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে। জাতিসংঘের প্যানেল দ্য কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটি (সিডিপি) শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক সভায় বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে।