স্কুলছাত্রী মুন্নী হত্যাকারী বখাটে এহিয়া’র মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাইয়ে স্কুলছাত্রী হুমায়ারা আক্তার মুন্নী হত্যাকারী বখাটে মোহাম্মদ এহিয়া সরদার ইয়াহিয়াকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন আদালত। বুধবার বেলা ১১ টায় সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার এই রায় দেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, দিরাই পৌর শহরের আনোয়ারপুর নয়া হাটির মাদানী মহল্লা এলাকার ইতালী প্রবাসী হিফজুর রহমানের মেয়ে মুন্নীকে উত্যক্ত করতো বখাটে এহিয়া। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে দিরাই পৌর শহরের মাদানী মহল্লা এলাকায় মুন্নীর ঘরে ঢুকে আসামী এহিয়া সরদার ও আসামী তানভীর আহমদ চৌধুরী। আসামী তানভীর দরজার নিকট দাঁড়িয়ে থাকে। এহিয়া মুন্নীকে তার কক্ষে পড়াশুনা করা অবস্থায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। মেয়ের চিৎকার শুনে মা রাহেলা বেগম এগিয়ে আসলে আসামী এহিয়া তাকে ( রাহেলা বেগমকে) ধাক্কা মেরে কক্ষের মেঝেতে ফেলে দেয়। পরে এহিয়া, তানভীর এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন মোটর সাইকেলে ওঠে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত মুন্নীকে প্রথমে দিরাই হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ডাক্তাররা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেবার পরামর্শ দেন। সিলেটে নিয়ে যাবার সময় পথে পাথারিয়া বাজার এলাকায় মৃত্যু ঘটে মুন্নীর। ঐ দিনই মুন্নীর মা রাহেলা বেগম এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে উপজেলার সাকিতপুর গ্রামের জামাল মিয়া সরদার ও মোছাম্মৎ হামিদা বেগমের ছেলে মোহাম্মদ এহিয়া সরদার’এর বিরুদ্ধে গত বছরের ৭ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দায়ের করেন। অন্য আসামী উপজেলার তাড়ল গ্রামের আবুল কালাম চৌধুরী’র ছেলে মো. তানভীর আহমদ চৌধুরী’র বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেন।
আদালত ২০১৮ ’এর ২২ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামী মোহাম্মদ এহিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন এবং তানভিরকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করেন।
দীর্ঘ শুনানী ও স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বুধবার সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার আসামী এহিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদ-ে দন্ডিত করেন।
আদেশে বলা হয়, ‘আসামীর মৃত্যু দন্ডাদেশ হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হলো।’
মামলা পরিচালনায় বাদীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন- রবিউল লেইছ, আসামী পক্ষে হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি ড. মো. খায়রুল কবির রুমেন।