স্কুলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ৫ গ্রামের মানুষ

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারের সেই স্কুল থেকে শিক্ষার্থী বের করে দেবার বিষয়ে এবং জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের সরেজমিন তদন্ত করলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস। ইউএনও বললেন, ‘তদন্তকালে উপস্থিত ৪ টি গ্রামের এক- দেড়’শ মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে। সকলেই বলেছেন,‘তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোন স্কুল নেই, ওখানে একটি স্কুলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’ তদন্তকালে তিনি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দিয়ে খোলা আকাশের নীচে প্রখর রোদে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করার প্রমাণও পেয়েছেন।
সোমবার বেলা ১১ টায় দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস মংলারগাঁও বেরসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে তিনি খোলা চত্বরে বসে এলাকাবাসীর বক্তব্য শুনেন।
এসময় দক্ষিণ নৈনগাঁও, তেগাঙা, মাইজখলা, মংলারগাঁও, সাপেরগাঁও, মুরাদপুর ও মাছিমপুর গ্রামের একাংশের প্রায় দেড়’শ অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস এলাকাবাসীর সঙ্গে এক এক করে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এসময় এলাকাবাসী তাঁদের ভৌগোলিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন, ‘তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কোন স্কুল নেই। ৫ টি গ্রামের শিশুরা আসে মংলারগাঁও বেসসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে। এই শিশুদের পরীক্ষার সময় স্কুল থেকে রোদে খোলা আকাশের নীচে অমানবিকভাবে বের করে দেওয়ায় আমরা কষ্ট পেয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত অভিভাবকদের জিজ্ঞেস করেন স্কুলটি কবে থেকে চালু হয়েছে। উপস্থিত শিক্ষার্থী অভিভাবকরা উত্তরে বলেছেন, ‘১৯৯৪ থেকে স্কুলটি চালু হয়। স্কুলের জন্য ৩৩ শতাংশ ভূমি দানপত্র করেছিলেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সারদা কান্তি দাস। ঐ ভূমিতে স্কুলঘর করে পাঠদান শুরু হয়। কিন্তু কয়েকবারই স্কুলঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হয়। এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা অন্য স্কুলের নামে সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে।’ এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম, নৈনগাঁওয়ের সমাজকর্মী মাসুক মিয়া, তেগাঙার শিক্ষার্থী অভিভাবক রহমত আলী, মাঝেরগাঁও’এর আবুল মিয়া বিনয়ের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেন,‘শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে স্কুলটি রক্ষা করুন আপনি।’ বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ডটিও অধ্যক্ষ একরামুল হক কর্তৃক ফিরিয়ে না দেবার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান এলাকাবাসী।
তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইনবোর্ডসহ বিদ্যালয়ের ছবি দেখতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবি রানী দাস সাইনবোর্ডসহ স্কুলের ছবি তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে।
দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের ৩ বারের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক আব্দুল খালেক বলেন,‘এই স্কুলের এক সময়ের ৩৩ শতাংশ, কলেজের ভূমি এবং কলেজের নামে সরকারি ১১৫ শতাংশ জমির বাইরেও স্কুল এলাকায় ২২১ দাগে ২১ শতাংশ সরকারি ভূমি রয়েছে। যা কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি।’ তিনি এলাকার ম্যাপ ও পরচা দেখিয়ে ঐ জমি মংলারগাঁও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে বন্দোবস্ত দেবার অনুরোধ জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক সকলকে আশ্বাস দিয়ে বলেন,‘জমি দিলে স্কুলঘর হবে কী-না? এলাকাবাসী জবাবে বলেন, ‘দেখতে দেখতে স্কুলঘর হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন,‘মংলারগাঁওয়ে গিয়ে এক-দেড়’শ স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে। মংলারগাঁও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিদাতার সঙ্গেও কথা হয়েছে। সবাই ওখানে স্কুল করার পক্ষে দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ৩ কিলোমিটারে মধ্যে স্কুল নেই। সরেজমিনে সেটি-ই দেখেছি আমি। এখন জমি-জমার বিষয়টি আইনি বিষয়। আমরা তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’
জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২৩ ও ২৪ এপ্রিল এই বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় উপস্থিত ১৬২ জন শিক্ষার্থীকে দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হক শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে দেননি। পরে প্রখর রোদে খোলা আকাশের নীচে পরীক্ষা দিয়েছে শিশু শিক্ষার্থীরা। এসময় বিদ্যালয়ের অনেক শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। অধ্যক্ষ ঐ বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ডও খুলে নেন।



আরো খবর