স্কুলে আসতে ভয় হয় আমাদের

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
‘স্কুলে আসতে ভয় হয় আমাদের। ছোট্ট বোনটি বুঝতে শেখার আগেই যেভাবে বর্বরতার শিকার হয়েছে, তা কোনভাবেই মানা যায় না। এ ঘটনায় ভয় আমাদের আরও বেড়েছে। ঘৃণা জানানোর ভাষা নেই আমাদের। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না হলে এমন ঘটনা আরো ঘটতেই থাকবে। আমরা হয়তো আর স্কুলেই আসতে পারবো না। শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এলাকার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে এবং দোষিদের বিচারের দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থীর মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেবার সময় নিজের আতংকের কথা এভাবেই বর্ণনা করছিল রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার।
একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুহেল পাঠান তার বক্তব্যে বললো,‘আমরা লজ্জা পাই, আমাদের ক্ষোভ হয়, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা মানুষ নয়, পশু। এসব পশুর বিচার এমনভাবে
করতে হবে, যাতে আর কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়’।
স্থানীয় সমতা জনসংগঠন এবং রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন চলাকালে সমতা জনসংগঠনের সভাপতি আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে এবং রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- সমতা জনসংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা বেগম, সহসভাপতি জামিলা আক্তার, রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মহসিন আহমদ ইয়াছমিন, আওয়ামী লীগ নেতা মহরম আলী, উন্নয়ন সংগঠন সানক্রেডের বিশ্বম্ভরপুর শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল খালেক, বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন- ‘৭ বছরের একটি শিশুকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা মধ্যযুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। শিশুটি হাসপাতালে মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। অবিলম্বে অপরাধী নরপশুদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য এদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’
গত মঙ্গলবার উপজেলার বাঘবেড় গ্রামের ৭ বছরের শিশুকে পুতুল কিনে দেবার কথা বলে বাড়ির পাশের ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনের পিছনে নির্জন স্থানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথম সুনামগঞ্জ সদর হাপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেয়েটি এখনও মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।