স্থগিত ৩ উপজেলার নির্বাচন জুনের আগে হচ্ছে না?

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এবং শাল্লা উপজেলা পরিষদের স্থগিত ৩ কেন্দ্র এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্থগিত দুই কেন্দ্রের নির্বাচন সারা দেশের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ হবার আগে অর্থাৎ জুন মাসের আগে হচ্ছে না। নির্বাচনী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত জেলা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য দিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেছেন,‘যেহেতু এসব সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন জানাবেন, সেহেতু আমাদেরকে উদ্ধৃত করে এসব তথ্য দেওয়া যাবে না।’
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত হয় ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে ৮ মার্চ রাতে। কমিশন থেকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়,‘এই উপজেলায় সুষ্ঠু ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণ এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।’
এরপরই থেমে যায় এই উপজেলার জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণা। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিলে এই উপজেলায়ই প্রার্থী ছিলেন অন্যান্য উপজেলার চেয়ে বেশী।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ (আওয়ামী লীগ মনোনীত), জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাচনাবাজার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম এবং জমিয়ত নেতা রশীদ আহমদ প্রার্থী হয়েছিলেন। চেয়ারম্যান পদে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠেছিল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীমের মধ্যে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ এখানে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছিল। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিলেও এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর পক্ষেই সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় ছিল বিএনপি। নির্বাচন ঘিরে এই উপজেলায় বিএনপিও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে এই উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে ওঠেছিল। ১০ জন প্রার্থী প্রচারণায় ছিলেন সমানে সমান। এরা হচ্ছেন- আকবর হোসেন, গোলাম জিলানী আফিন্দী রাজু, অ্যাড. জুবায়ের আবেদীন, জসিম উদ্দিন তালুকদার, আব্দুল আউয়াল, আব্দুল আহাদ, সিদ্দিকুর রহমান, শাহাব উদ্দিন, আব্দুল কদ্দুছ ও আসাদ মিয়া।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ৭ জন প্রার্থী। এরা হলেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজুর আক্তার দিপু, বীনা রানী তালুকদার, শারমীন সুলতানা, রুনা লায়লা, চৌধুরী শারমীন রহমান, রাবেয়া সিদ্দিকা ও সোহেলা আক্তার।
শীঘ্রই নির্বাচনের দাবিতে এসব প্রার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। নির্বাচন কমিশন এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তাঁরা।
এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম শামীম বলেন, ‘আমরা আশা করছি ৩১ মার্চের মধ্যে নির্বাচন হবে। প্রার্থীদেরও সেভাবেই প্রস্তুতি আছে।’
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ বলেন, ‘আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, নির্বাচন যেখানে আমি সেখানে, ৪০ বছর ধরেই নির্বাচন করছি।’
এদিকে, জেলার শাল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিন কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। তিন কেন্দ্রের ভোট নিকটতম প্রার্থীর ভোটের ব্যবধানের চেয়ে বেশি হওয়ায় গভীর রাতে জানানো হয়, এই উপজেলার স্থগিত তিন কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের পর ফলাফল ঘোষণা হবে।
এই উপজেলার ৩৬ কেন্দ্রের মধ্যে ইয়ারাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এই তিন কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৫১ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান হলো ৫ হাজার ৬৬৭। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলআমিন চৌধুরী পেয়েছেন ২৪ হাজার ৯৮০ ভোট এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অবনী মোহন দাস পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩০৩ ভোট।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের ফলাফলও ঘোষণা হয়নি। এই উপজেলার তেঘরিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র ও আব্দুর রহমান পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থগিত ভোট গ্রহণের পর বিজয়ী প্রার্থী নির্ধারণ হবে। এই দুই কেন্দ্র ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোর প্রাপ্ত ভোটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নিগার সুলতানা কেয়া পেয়েছেন ২২ হাজার ৩শত’ ৯২ ভোট এবং সাদিয়া বখত সুরভী পেয়েছেন ১৮ হাজার ৩৪ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৪ হাজার ৩শত’ ৫৮ টি। স্থগিত ঐ দুই কেন্দ্রের মোট ভোটার ৪ হাজার ৬শত’ ৪৪ জন। একারণে স্থগিত ঐ দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণের পর এই পদের প্রার্থীর বিজয় নির্ধারিত হবে।
নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত জেলা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা তাঁর পরিচয় উদ্ধৃত না করার অনুরোধ করে বলেন,‘অন্যান্য উপজেলার ভোট গ্রহণ শেষে জুন মাসেই স্থগিত হওয়া জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, শাল্লার ৩ কেন্দ্র এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার স্থগিত দুই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ হতে পারে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ অবশ্য বলেছেন,‘সুনামগঞ্জের স্থগিত হওয়া উপজেলা পরিষদ ও কেন্দ্রগুলোর ভোট গ্রহণ কবে হবে তা এখনো নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়নি। কমিশন থেকে জানানোর আগে এই বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।’