স্থানীয় আমের বাম্পার ফলন

আকরাম উদ্দিন
এবার স্থানীয় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় আম ব্যবসায়ী ও আম বাগানের মালিকদের। বিগত যেকোন সময়ের চাইতে সবচেয়ে বেশি আমের ফলন হয়েছে এবার। স্থানীয় আম বেশি বেশি বাজারে আসায় এবং স্বাদে-গন্ধে মিষ্টি থাকায় ক্রেতাদের নজর কাড়ছে বেশি। জেলা শহরের এবং উপজেলা শহরের হাট-বাজারগুলোতে স্থানীয় আমের বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। আষাঢ়ের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত স্থানীয় আম বাজারে আসবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এজন্য জেলার বাইরে থেকে আসা আমের চাহিদা নেই ক্রেতাদের।
কয়েকজন ক্রেতা জানান, জেলার বাইরের আমে এবারও ফরমালিন বা রাসায়নিক ওষুধ মেশানো হয়েছে, মনে এমন সন্দেহ থাকায় দেশী আম বেশি কিনছেন তারা।
বাইরের আম বিক্রেতারা জানান, জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকেই আম নিয়ে বসছেন বাজারে তারা। কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। বেশিরভাগ ক্রেতাই স্থানীয় আম কিনতে চান।
শহরের বালুমাঠ, থানার সামনে, ট্রাফিক পয়েন্টে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ, বাঘবের, ধনপুর, মথুরকান্দি, কারেন্টের বাজার, শক্তিয়ারখলা বাজারে, সদর উপজেলার আমপাড়া, চৌমুহনী, মঙ্গলকাটা, আমবাড়ি, দোয়ারাবাজার, দিরাই, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, তাহিরপুর, বাদাঘাট বাজারে স্থানীয় আমের বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। সড়ক যোগাযোগ ভাল থাকায় এসব স্থানীয় জাতের আম বাজারে বেশি আসছে।
এবার সবচেয়ে বেশি আমের ফলন হয়েছে সদর উপজেলার হাসাউড়ায়। প্রতিদিন সকালে নৌকাযোগে শহরের বালুর মাঠ হয়ে বাজারে আসে এসব আম। এ ছাড়াও শহরতলীর গ্রামের আম বাজারে আসে প্রতিদিন। জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকেই স্থানীয় আমের দাম প্রতি কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাইরের আমের দাম প্রথম দিকে প্রতি কেজি ১৪০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা নেমে এসেছে সর্বনি¤œ ৫০ টাকা কেজিতে।
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ছফেরগাঁওয়ের আমের ক্রেতা মো. মনসুর আলী বলেন, ‘এবার স্থানীয় আমের ফলন ভাল হয়েছে। আমরা ফরমালিনমুক্ত আম খেতে পারছি।’
শহরের বাসিন্দা মো. রাসেল মিয়া বলেন, ‘বাইরের আমে ফরমালিন নেই, এমন সন্দেহ মন থেকে মুছে ফেলতে পারছি না। তাই স্থানীয় আম কিনে নিচ্ছি। ’
মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের আলকাছ আলী বলেন,‘আমি প্রতিদিন প্রায় ৩০ কেজি নিজের গাছের আম বাজারে বিক্রি করতে আসি। আমের ফলন ভাল হওয়ায় প্রায় ১ মাস ধরে ৩টি গাছের আম বিক্রি করে আসছি। আরও কয়েকদিন বিক্রি করতে পারবো।’
একই ইউনিয়নের ইছাগড়ি গ্রামের মো. সামছুদ্দিন বলেন,‘আমি প্রতিদিন বস্তায় করে ৩০-৪০ কেজি আম শহরের বাজারে নিয়ে আসি। আমের ফলন এবার খুবই ভাল হয়েছে।’
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের আম্বর আলী বলেন,‘আমার ছোট-বড় প্রায় ১শ’ আমের গাছ রয়েছে। জ্যৈষ্ঠের প্রথম থেকে ৩০-৪০ কেজি পাকা আম বাজারে বিক্রি করছি। আষাঢ়ের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আম বিক্রি করতে পারবো।’
পলাশ বাজারের ব্যবসায়ী মো. রমজান আলী বলেন,‘এবারে আম নিজেও খেতে পারছি, কুটুমবাড়িও দিতে পারছি। ভাল দামে বাজারে বিক্রিও করছি।
হাসাউড়ার আবুল কাশেম, মনতাজ আলী ও আজিজুল হক বলেন,‘এবার আমের ফলন খুবই ভাল হয়েছে। হাসাউড়া এলাকায় প্রায় ১ হাজার আমের গাছ আছে। গ্রামের হাট-বাজারেও বিক্রি করছি। আষাঢ় মাস পর্যন্ত আম বিক্রি করতে পারবো।’
শহরের হাছননগরের রাজশাহীর আম বিক্রেতা জহির উদ্দিন ও সেলিম আহমদ বলেন, ‘রমজান মাসের শুরুতেই রাজশাহী থেকে আম এনে বিক্রি করছি। কিন্তু গত বছরের তুলনায় তেমন বিক্রি নেই। মানুষ স্থানীয় আমের দিকে নজর দিচ্ছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বশির আহমদ বলেন,স্থানীয় জাতের আমের কোন পরিসংখ্যান তাঁদের কাছে নেই। তবে এবার ফলন ভাল হয়েছে আমের।