স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনগুলো হোক গ্রহণযোগ্য

আগামী ১৭ অক্টোবর সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন। জেলাব্যাপী স্থাপিত ১২টি ভোটকেন্দ্রের ২৪টি বুথে ১২২৯ জন ভোটার ভোট দিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নির্বাচিত করবেন। নির্বাচনের উত্তাপ মূলত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ঘিরে। একই দলের দুই প্রার্থী। একজন দল মনোনীত, অন্যজন স্বতন্ত্র পরিচয়ে লড়ছেন। উভয় প্রার্থীই নিজের পক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে নির্বাচনী কৌশলের প্রয়োগ করছেন যা স্বাভাবিক। এ নিয়ে উভয় প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা পরস্পর বাগযুদ্ধে নিয়োজিত আছেন। এই বাগযুদ্ধের প্রধান জায়গা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বাগযুদ্ধের এই ক্ষেত্র যাতে সহিংসতার দিকে না এগোয় কিংবা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি তৈরি না করতে পারে সেদিকে নাগরিক সমাজ সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যে প্রার্থীই জয়ী হন না কেন তাকে মেনে নেয়াই হলো গণতন্ত্রসম্মত আচরণ। আর সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা উভয় প্রার্থীর কর্তব্য।
এদিকে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামী ২ নভেম্বর। এখানেও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী। যথারীতি একজন দল মনোনীত, অন্যজন বিদ্রোহী। অবশ্য জগন্নাথপুরে চেয়ারম্যান পদে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রার্থী বেশি থাকায় প্রচারণার উত্তাপ এখানে কিছুটা বেশি থাকবে এটা স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার আগেই প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন যা নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুসারে অবৈধ। প্রার্থীরা বলেছেন, অতিউৎসাহী সমর্থকরা এটা করছেন, তারা নিষেধ করে দিয়েছেন। নির্বাচনে এটা হয়। প্রতীক ছাড়াও ব্যক্তিগত যোগাযোগ বন্ধ করার কোনো উপায় নেই। শেষ পর্যন্ত যাতে এই প্রচারণা কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরি না করতে পারে তাই হলো আসল কথা। যে যার মত প্রচারণা চালান, ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোট দেয়ার পরিবেশ পান; তাহলেই কেবল একটি নির্বাচন সার্থকতা পেতে পারে।
নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বেশ শক্ত অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। সদ্যসমাপ্ত গাইবান্ধা উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে নির্বাচন কমিশন একটা শক্ত বার্তাই দিতে চেয়েছেন। অনুমিত হয়, নিকট ভবিষ্যতের কোনো নির্বাচনেই সামান্যতম অনিয়মও এই নির্বাচন কমিশন সহ্য করবেন না। জনগণ কমিশনের এমন নিরপেক্ষ কঠোর অবস্থাই দেখতে চায়। এখন ভালো হয়, নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থান যদি প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা অনুধাবন করতে সক্ষম হন। নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রাখতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিদের গণতান্ত্রিক মানসিকতাও সমান জরুরি। বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার একটি সভা করে সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলার বিষয়ে শক্ত বার্তা দিয়েছেন। যেকোনো ব্যত্যয়কে তারা কঠোরভাবে প্রতিহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরাও চাই প্রশাসন নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে প্রতিটি ক্ষেত্রে ভালো নির্বাচনের দৃষ্টান্ত তৈরি করুন।
সমস্যা হলো, মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা জয়ের বাইরে আর কিছু ভাবতে পারেন না। জাতীয় নির্বাচন থেকে স্থানীয় নির্বাচন পর্যন্ত একই অবস্থা। এই মানসিকতাই যত সংকটের মূল। এই অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার কারণেই নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের যাবতীয় উপাদানের উদ্ভব ঘটে। মূলত নির্বাচনী সংস্কৃতিতে চেপে বসা এই আগ্রাসী মনোভাব দূর না হওয়া পর্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশের আশা করা কঠিন বিষয় বৈকি। এই জায়গায় নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব কর্তব্য সর্বাধিক। কমিশন ও স্থানীয় ভোটগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ শক্ত অবস্থানে থাকলে প্রার্থীদের আগ্রাসী অবস্থা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আমরা আশা করব, জেলার আসন্ন দুইটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সর্বোত্তম গ্রহণযোগ্য হয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করুক।