স্বপ্নপূরণ হচ্ছে না হাওরবাসীর

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত তিনটি সেতুর কাজ না হওয়ায় হাওরাঞ্চলের মানুষের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পিছিয়ে রয়েছে। সেতু তিনটি হচ্ছে মার্কুলিতে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু, জামালগঞ্জ-সাচনা বাজারের যোগাযোগ সেতু এবং সুনামগঞ্জ- নেত্রকোণা সড়কে সুরমা নদীর উপর সেলিমগঞ্জ সেতু।
২০১০ সালের ১০ অক্টোবর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলেছিলাম, ‘ভাটির মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে সাচনাবাজারে ও সেলিমগঞ্জে সুরমা নদীর উপর সেতু হবে। দিরাই-মার্কুলি-বানিয়াচঙ-আজমিরিগঞ্জ সড়ক নির্মাণ করতে মার্কুলিতে সুরমা নদীর উপর সেতু হবে।’
গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু নির্মাণের জন্য গত কয়েক বছর ধরে কেবল সমীক্ষা কাজ চলছে। সমীক্ষার কাজই শেষ না হওয়ায় এই সরকারের সময়কালে সেতু তিনটির কাজ শুরু নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
শাল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি পিসি দাস বলেন,‘মার্কুলিতে কুশিয়ারার উপর সেতু হলে দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ ও নেত্রকোণার খালিয়াজুরির মানুষের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব কমবে। ভাটি অঞ্চলের চেহারা বদলে যাবে। প্রয়াত রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এই সেতুর স্বপ্ন দেখতেন।’
শাল্লা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন,‘কুশিয়ারা নদীর উপর ‘মার্কুলি সেতু’ হলে দিরাই থেকে ধল হয়ে মার্কুলি-বানিয়াচং-হবিগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যেতে ৩ ঘণ্টা সময় কম লাগবে। শাল্লা থেকে পাহাড়পুর হয়ে ঢাকা যেতে অনেক কম সময় লাগবে। পুরো ভাটি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পাল্টে যাবে।’
একইভাবে দুটি সেতুর কারণে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা- নেত্রকোণা সড়ক যোগাযোগ হচ্ছে না । একটি সাচনাবাজারে সুরমা নদীর উপর সেতু এবং আরেকটি সেলিমগঞ্জে সুরমা নদীর উপর সেতু।
জামালগঞ্জ উদীচী’র সাধারণ সম্পাদক গণমাধ্যমকর্মী আকবর হোসেন বলেন,‘সুরমা নদীর উপর সেলিমগঞ্জে সেতু হলেই জামালগঞ্জ-ধর্মপাশার সড়ক যোগাযোগ স্থাপন সহজ হয়ে যায়। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ- নেত্রকোণা সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হয়। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরের দূরত্ব কমে যায়। হাওরাঞ্চলের উৎপাদিত ধান, মাছ ও সবজী সহজেই রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাত। ভাটির মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও বদলে যেত।’
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন,‘সেতু তিনটি হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য খুবই জরুরি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী সমীক্ষা কাজও চলছে। সমীক্ষা শেষ হলে ডিজাইন হবে। এরপর সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হবে।’