স্বর্ণগর্ভা চলতি জৌলুস হারিয়েছে

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ধোপাজান চলতি নদী। সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা এই চলতি নদীর উভয় পাশের্^ রয়েছে অন্তত: ২০টি গ্রাম। নদী খনন না হওয়ায় বছরের পর বছর ভাঙনের কবলে পড়ে ফসলি জমি ও ঘর-বাড়ি হারাচ্ছেন এলাকার মানুষ। এই নদী খননের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই নদী এক সময় ছিল স্বর্ণগর্ভা, ক্রমান্বয়ে এটি জৌলস হারিয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে আসা ধোপাজান চলতি নদী সুরমা নদীতে মিলিত হয়েছে। সদর উপজেলার সদরগড়, অক্ষয়নগর, মুসলিমপুর, হুড়ারকান্দা, বালাকান্দা, সৈয়দপুর, সাহেবনগর, কাইয়ারগাঁও, পূর্ব ডলুরা এবং বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার মনিপুরিহাটী, ভাদেরটেক, জিনারপুর, আদাং, রামপুর, পশ্চিম ডলুরা ইত্যাদি গ্রামের মানুষ বসবাস করে আসছেন এই নদীর পাড়ে।
সোমবার দুপুরে আদাং গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, ধোপাজান চলতি নদীর বুক ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহের পথ পাল্টে গিয়ে একাধিক পানি প্রবাহের পথ সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের ধাক্কায় নদীর তীর ভেঙে গ্রামের বসতিদের ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। শত বছর ধরে বর্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা এই নদীতে ভেসে আসা গাছ, লাকড়ি ও মাছ ধরে উপার্জন করে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিলেন। জীবীকা নির্বাহের অবলম্বন ছিল এই ধোপাজান চলতি নদী। প্রায় ২৫ বছর আগেও মাছ ও গাছ ধরে মানুষ জীবীকা নির্বাহ করতেন। নদী ভরাটের কারণে এখন গাছ, লাকড়ি ও মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মানুষ দৈনন্দিন খরচ যোগাতে বালু-পাথর সংগ্রহের কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এই বালু পাথর একসময় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ১০-১২ বছর আগে বোমা মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলন করতে শুরু করেন। এতে এক শ্রেণির মানুষ লাভবান হলেও হাজার হাজার দিনমজুর বেকার হয়ে পড়েন। বছর বছর বালু-পাথর উত্তোলন করায় নদীর পানি প্রবাহের পথ পাল্টে একাধিক পথে রূপান্তর হয়। এই কারণে নদীর মাঝে মাঝেই চর জেগেছে।
বালাকান্দা বাজারের ব্যবসায়ী মো. নাদির শাহ বলেন,‘ধোপাজান চলতি নদীতে হাজার হাজার মানুষ জীবীকা নির্বাহ করতেন। এখন নদীটি ভরে যাওয়ায় পাহাড়ি ঢলের সাথে গাছ আসে না। মাছ ও লাকড়ি আসে না। বালু- পাথর শেষ হয়ে গেছে। নদীর দুই পথে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙন ধরেছে নদীর তীরে। সরকারী উদ্যোগে এই নদীর খনন প্রয়োজন।’
রামপুর গ্রামের আজিম মোড়ল বলেন,‘ধোপাজান চলতি নদী খনন হলে নদীর তীর ভাঙন রোধ হবে। মানুষ জীবীকা নির্বাহের সঠিক স্থান খুঁজে পাবে। নদীর মাঝপথে পানি প্রবাহ সৃষ্টি হবে। এখন নদীর তীর ভেঙে ৩ গুণ বড় হয়েছে। খনন হলে তীরবর্তী বাসিন্দাদের হারিয়ে যাওয়া জমি ও ঘর-বাড়ি ফিরিয়ে পাবে। সরকারী উদ্যোগে এই নদী খনন করা জরুরি।’
সাহেবনগর গ্রামের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন,‘নদীর মুল গতিপথ হারিয়ে এখন পানি প্রবাহের একাধিক পথ সৃষ্টি হওয়ায় তীরে ভাঙন ধরেছে। নদীর তীর ভাঙনে মানুষের ফসলি জমি, ঘর-বাড়ি বিলীন হয়েছে। হারিয়েছে জীবীকার সন্ধান। নদীর পশ্চিমে এবং পূর্ব দিকে পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাহাড়ি ঢলে নদীর তীর ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর খনন জরুরি।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)’এর উপসহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন,‘চলতি নদী খননের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২-১ মাসের মধ্যেই খনন কাজ শুরু হবে।’