স্বাগত ২০১৯

মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেল আরও একটি বছর। বর্ষপরিক্রমায় যুক্ত হলো আরেকটি পালক। নতুন একটি বর্ষে পদার্পণ করল। শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার অপার বারতা নিয়ে শুরু হলো নতুন বছর। স্বাগত খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০১৯। পুরনো বছরটিকে পেছনে ফেলে সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ার দুরন্ত আহবানে মানুষ স্বাগত জানায় অনাগত ভবিষ্যতকে। বিদায়ী বছরের ব্যর্থতাকে সরিয়ে রেখে নতুন বছরে নতুনভাবে শুরু হলো পথচলা। সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব পেছনে রেখে সামনে এগিয়ে যাবার দিন হলো শুরু। পুরাতন বছরের সংশয়, সঙ্কট, উদ্বেগ কাটিয়ে উঠে নতুন ভাবনার আশায় নতুন করে দিনযাপন শুরু আজ থেকে। বিশ্ববাসী প্রবেশ করল একুশ শতকের আরও এক বছরে। নতুন বছর মানে নবযাত্রা। নতুন আশা এবং নতুন করে পুরনো সমস্যা মোকাবেলা করে সবাইকে এগিয়ে যাবার দিনের যাত্রা হলো শুরু। নতুন বছর সবার জীবনে শুভ হয়ে দেখা দেবে- এটাই কাম্য।
বাংলাদেশে গ্রেগরিয়ান নববর্ষ পালনের রেওয়াজ ব্রিটিশ শাসনামল থেকে অনুসৃত হয়ে আসছে বলা যায়। সম্প্রতি তা পরিসরে বেড়েছে। ইংরেজী নববর্ষ হিসেবে বাঙালির কাছে পরিচিত দিবসটি পালনের ধরণ সারা পৃথিবীতে একই রকম। পশ্চিমা বিশ্বে এর আনন্দচ্ছটা একটু বেশি। পশ্চিমাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঙালিও নতুন আনন্দে মেতে ওঠে। পুরনো বছর যেমনই কাটুক নতুন বছর যেন ভাল কাটে সেই কামনা থাকে সবার মধ্যে।
নতুন বছরে, নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে বাংলাদেশ। স্বপ্ন দেখে শান্তি, স্বস্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির। বিনাশ হবে অগণতান্ত্রিক অপশক্তি, জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও অপরাজনীতি। জীবনের নিরাপত্তা, সহনীয় দ্রব্যমূল্য এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সবাই মিলে কাজ করা- এই হোক নববর্ষের প্রত্যয়। দেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে আইনের শাসনের ভিত আরও মজবুত হোক। শিক্ষা-দীক্ষার ঘটুক আরও বিস্তার, যেন কোন মানুষ আর থাকতে না পারে নিরক্ষর। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে নিয়ে যেন আর কেউ কটাক্ষ করতে না পারে, স্বাধীনতার মূল্যবোধ থাকুক অক্ষুন্ন। শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য আর দেশের প্রতি অগাধ ভালবাসায় নতুন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হোক নতুন বছরের অঙ্গীকার। ২০১৯ সালে উন্মোচিত হোক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।