স্বামীর মৃত্যুসংবাদ শুনে গলায় ফাঁস দিলেন সদ্যবিবাহিতা স্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নববিবাহিত এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। এই শোকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে নববধূ। রবিবার দুপুরে স্বামী নিবলু দাসের (৩২) মৃত্যু ঘটে এবং সোমবার ভোরে স্ত্রী নিয়তি রানী দাস আত্মহত্যা করেন। নিবলু ও নিয়তি’র প্রায় আড়াই মাস আগে বিয়ে হয়েছিল। নিয়তি দুই মাসের অন্ত:সত্বাও ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা বেনু দাসের ছেলে নিবলু দাস। পেশায় থাই মিস্ত্রি ছিলেন তিনি। গত ২০ আষাঢ় দিরাই উপজেলার রঙ্গারচর-ফতেহ্পুরের ছানু দাসের মেয়ে নিয়তি রানী দাস (২৭) কে বিয়ে করেন নিবলু।
রবিবার সাচনা বাজারের একটি দোকানে থাইয়ের কাজ করছিলেন নিবলু দাস। কাজের সময় হঠাৎ একটি থাই অসাবধানবশত পল্লী বিদ্যুতের তারে লেগে যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে তার। এ সংবাদ রাতে শুনলে সোমবার ভোর রাতে বসত ঘরের পেছনের বাথরুমের সামনে নিজের পরনের শাড়ি দিয়ে একটি বাঁশের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন নিয়তি। নিয়তি দুই মাসের অন্ত:সত্বা ছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসে নিবলু’র মরদেহ। রাতে মরদেহ হাসপাতালে পৌঁছানোয় ময়নাতদন্ত হয় নি। নিবলু’র সঙ্গে থাকা স্বজনরা সকালে খবর পান স্ত্রী নিয়তিও ফাঁস লেগে আত্মহত্যা করেছে। সকালে নিয়তির মরদেহও ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
এসময় আত্মীয়-স্বজনের আহাজারিতে পুরো হাসপাতাল চত্বরে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিবলু’র কাকাতো ভাই ঝন্টু দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানালেন, কেবল আত্মীয় স্বজনের মধ্যে নয়, পুরো রামপুর গ্রামের মানুষই কাঁদছে। আমার জেঠাতো ভাই নিবলু। তারা দুই ভাই। অন্য ভাইয়ের (বাবলু দাস, বয়স ৩০) দুটি কিডনিই ডাক্তার বলেছেন ড্যামেজ প্রায়। জেঠা অসুস্থ, জেঠিমাও অসুস্থ। একমাত্র উপার্জনকারী ভাই এভাবে মারা গেছে। এই শোক কীভাবে সহ্য করা যায়। এই সংসার কে দেখবে? আমরা সকলেই তো দরিদ্র।
নিবলু’র ভায়রা ভাই (স্ত্রী’র ভগ্নিপতি) কানু লাল দাস জানালেন, গত ২০ আষাঢ় নিবলু-নিয়তি’র বিয়ে হয়েছে। নিয়তি দুই মাসের অন্ত:সত্বা ছিল। সে জানতো তার স্বামীই শ্বশুরের সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তাঁর এমন মৃত্যু সইতে পারে নি নিয়তি।
জামালগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানালেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী মারা যাবার পর, নববিবাহিতা স্ত্রী এই শোক সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন নিয়তি’র স্বজনরা।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানান, জামালগঞ্জের নিবলু দাস এবং নিয়তি রানী দাসের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বুঝা গেছে নিবলু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন এবং নিয়তি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।