স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্যা ও পরিবহন খাতের নৈরাজ্য

সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতি প্রতিরোধ, পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ ও সুনামগঞ্জ-সিলেট রোডে বিআরটিসির বাস বাড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে নাগরিক অধিকার উন্নয়ন সমিতি নামের একটি সংগঠন। সুনামগঞ্জের সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ দুইটি বিষয়কে সংগঠনটি আমলে নিয়ে তারা সরকারের কাছে এইসব দাবি জানিয়েছে। এই দাবিগুলো সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের। কারণ এই দুই বিষয়ের সাথে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক একেবারেই প্রত্যক্ষ ও নিবিড়। স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকটি খাতে দুর্নীতি হওয়ার ঘটনা পুরোনো জিনিস। কিন্তু এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদটা নতুন। বহুদিন এইসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেননি। এবার কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন এসব ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছেন বলে সকলের সামনে এসেছে। নতুবা হাসপাতালের ঔষধ ও খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবার প্রতিটি খাতে দুর্নীতি হয়নি কখন, তা কেউ বলতে পারবেন? এবার এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলা শুরু হয়েছে তা ভাল লক্ষণ। সমাজে বিভিন্ন অন্যায্যতা ও অসংগতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি না থাকলে সেই সমাজকে নির্জীব সমাজ বিবেচনা করা হয়। গত কয়েক মাস ধরে স্বাস্থ্য বিভাগের কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণাসহ মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচুর সংবাদাদি প্রকাশ হয়ে চলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এইসব প্রতিবাদ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না। এর কারণ কী? স্বাস্থ্য বিভাগের এই দুর্নীতির অভিযোগগুলো কি অসত্য? যেহেতু সমাজের সাধারণ মানুষের স্তর থেকে এই প্রতিবাদ উচ্চকিত হয়েছে তাই অভিযোগগুলো অসত্য হলেও স্বাস্থ্য বিভাগকে তা স্পষ্ট করে মানুষকে জানাতে হবে। নতুবা মানুষ মনে করবে এই দুর্নীতির সাথে বড় বড় সংযোগ সূত্র রয়েছে।
জেলার বেসরকারি পরিবহন মালিকরা ২ সেপ্টেম্বর থেকে বিভাগব্যাপী ধর্মঘট কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। তাদের দাবি সুনামগঞ্জ-সিলেট রোড থেকে বিআরটিসির বাস সার্ভিস সংকুচিত করতে হবে। এখন এই রোডে বিআরটিসির মাত্র ছয়টি গাড়ি চলাচল করে যেখানে বেসরকারি বাস চলে চার শ’। বিআরিিটসির এই ৬টি বাস নিয়ে যে সার্ভিস তা সংকোচন করার অর্থ হলো এই রাস্তা থেকে বিআরটিসিকে বিদায় করে দেয়া। বেসরকারি পরিবহন খাতের এই দাবির বিপরীতে জেলার সর্বস্তরের মানুষের দাবি হলো সড়কে বিআরটিসির সার্ভিস আরও সম্প্রসারণের। অর্থাৎ সাধারণ যাত্রীরা চাইছেন সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হোক। জনগণের দাবির সাথে বেসরকারি পরিবহন মালিকদের দাবি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ও সাংঘর্ষিক। এই অবস্থায় সরকারের ভূমিকা এখানে কী হওয়া উচিত ? সরকারের অবস্থান সর্বাবস্থায় জনগণের পক্ষেই থাকা প্রত্যাশিত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বেসরকারি পরিবহন মালিকরা ২ সেপ্টেম্বর থেকে ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেয়ার পর সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সরকারের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ধর্মঘটের নামে যখন জনদুর্ভোগ তৈরি হবে তখন পর্যন্ত সরকার অপেক্ষা করার নীতি অবলম্বন করেছেন। এরকম অবস্থান অনাকাক্সিক্ষত। সমস্যার শুরুতেই হস্তক্ষেপ করলে সমাধানের পথ প্রশস্ত হয়। আমরা দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বেশ আগেই সম্পাদকীয় স্তম্ভে পরামর্শ দিয়েছিলাম।
নাগরিক অধিকার উন্নয়ন সমিতি নামের সংগঠনটি জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবহন খাত নিয়ে যে দাবি উত্থাপন করেছেন সেগুলো জনগণের পক্ষে বিবেচনায় আমরা এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করছি। একই সাথে সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, অনতিবিলম্বে এইসব দাবির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করুন।