স্বাস্থ্য বিভাগে দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন হতে দেয় নি ছাত্রলীগ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে আহূত মানববন্ধন করতে দেয় নি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় শহরের আলফাত স্কয়ারে এই মানববন্ধন আয়োজন করা হয়েছিল। হাসপাতালের দুর্নীতি দমন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধন হবার কথা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় হাসপাতালে দুর্নীতি দমন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ কমিটির ব্যানারে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এনামুজ্জামান চৌধুরী’র নেতৃত্বে রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র-জনতা মানববন্ধনে দাঁড়ালে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এসে মাইক কেড়ে নেয়। জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এনামুজ্জামান চৌধুরী মাইক ছাড়াই বক্তব্য প্রদান করে উপস্থিত সকলকে বিষয়টি অবহিত করেন। এসময় ওখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশও উপস্থিত ছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পরে মানববন্ধনকারীরা কয়েকটি মোটর সাইকেলে করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করেন। স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মচারী মধুসুদুন দাস ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের হেড ক্লার্ক ইকবাল হোসেনকে অপসারণের দাবিও জানান আন্দোলনকারীরা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আন্দোলনকারীরা জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছেন তারা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরিফুল ইসলাম তাৎক্ষণিক আন্দোলনকারীদের বলে দেন, জেলা প্রশাসক আসলে বিষয়টি লিখিতভাব যেন জানান তারা।
হাসপাতালে দুর্নীতি দমন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ কমিটির আহ্বায়ক এনামুজ্জামান চৌধুরী পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, তারা স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করেছিলেন। মানববন্ধনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতেই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপংকর কান্তি দে ও তার সঙ্গীরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। পরে এ ঘটনা জানানোর জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে তাঁকে না পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
এনামুজ্জামান চৌধুরী জানান, আগামী বুধবার স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতির বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপংকর কান্তি দে এই বিষয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের অফিসের পাশে সরকারের উন্নয়ন বিরোধী একটি মানববন্ধন হচ্ছে শুনে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা ওখানে যায়। শুনেছি মানববন্ধনস্থলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরাই বেশি ছিল। এজন্য ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা মৌখিকভাবে বাধা দেয়। মাইক কেড়ে নেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোন ঘটনা ঘটেনি।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সহিদুর রহমান জানালেন, সদর হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতি অনিয়ম হচ্ছে অভিযোগ করে একপক্ষ মানববন্ধন করতে চায়, আরেক পক্ষ বাধা দেয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ দুই দিকে চলে যায়।