স্মৃতিময় দিনগুলির স্মৃতি রোমন্থন

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে হাওর বেষ্টিত ভাটি অঞ্চল সুনামগঞ্জের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্লাটিনাম জয়ন্তী উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ও বর্তমান অধ্যক্ষ, উপাধাক্ষ্যগণ। অনুষ্ঠান ঘিরে অপরূপ সাজে সাজানো হয় কলেজ ক্যাম্পাস। কলেজের প্রবেশপথসহ কলেজ চত্বর তুলির আঁচড়ে নানা আলপনায় সৌন্দর্য্য বর্ধন করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে হাজারো শিক্ষার্থী কলেজ মাঠে এসে জড়ো হন। অনেকেই বন্ধুদের সাথে অতীতের স্মৃতি রোমন্থনে মেতে উঠেন। বন্ধুদের নিয়ে ফেলে আসা দিনগুলোর আলো-ছায়ায় খুঁজে ফেরেন স্মৃতিময় দিনগুলি। হারিয়ে যান ফেলে আসা স্বর্ণালী অতীতে। কেউ দলবেধে ছুটে যান ক্লাস রুমে, কেউবা কলেজ চত্বরে আবার কেউ পুকুর পাড়ে। নিজের প্রিয় জায়গাগুলো ঘুরে সকলেই কলেজ মাঠের অনুষ্ঠানস্থলে চলে আসেন। বেলা ১১টায় জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর বের হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। ব্যান্ডের তালে তালে জাতীয় পতাকা হতে নিয়ে নেচে গেয়ে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মাতেন আনন্দ উচ্ছাসে। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজে ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মিলনমেলায় পরিণত হয় প্লাটিনাম জয়ন্তী উৎসব।
শোভাযাত্রায় পর বিকাল পর্যন্ত চলে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আলোচনা, স্মৃতিচারণ ও ম্যাগাজিন ‘আলোর বাতায়ন’ এর মোড়ক উন্মোচন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুন্নাহার বেগম শাহানা রব্বানী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর পরিমল কান্তি দে, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রজত কান্তি সোম, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ সৈয়দ মুহিবুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি নাদীর আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর মোহাম্মদ শওকত, প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মনিষ কান্তি দে মিন্টু।
বিকালে গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। সন্ধ্যায় ছিল আতশবাজির ঝলকানি। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কর্নিয়া, আশিক, পাগল হাসান।