সড়কের কাজে আপোশ নয়

পাগলা- জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কটি এতদঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে এই সড়ক দিয়েই সুনামগঞ্জের সাথে রাজধানীর যোগাযোগ স্থাপিত হবে। রাজধানীর সাথে যোগাযোগের এই রাস্তাটি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা ঢাকার সাথে যোগাযোগের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনতে পারি। এই সড়কে তাই বড় ও আরামদায়ক গাড়িসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করবে। এই সড়ক ও সড়কাধীন কুশিয়ারা সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়ার জন্য পুরো জেলার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ। তাই এই সড়কের নির্মাণ কাজটি অত্যন্ত মানসম্পন্নভাবে শেষ হওয়া উচিৎ। যদিও সকল সড়কের কাজই মানসম্মতভাবে শেষ করতে হয়, তবুও এই আঞ্চলিক সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে নির্মাণ কাজে শিথিলতা দেখানোর কোন অবকাশ নেই। কিন্তু গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ এই প্রত্যাশার জায়গাটিতে পানি ঢেলে দিয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়াারিং লি: নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের সাতটি সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। প্রাক্কলিত ব্যয়ের পরিমাণ ১১০ কোটি টাকা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ব্রিজগুলো নির্মাণ করতে যেয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে। সড়কের দরগাপাশা এলাকায় নির্মিাণাধীন ব্রিজটিতে কাদা মেশানো পাথর ও ও নিম্নমানের বালি ব্যবহার করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদকের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বাংলাদেশে অনেক সেতু নির্মাণের অল্পদিন পরে অথবা উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ার নজির রয়েছে। এখন যদি এই আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নির্মিত সেতুগুলোর অবস্থাও তাই হয় তাহলে যে সহজ যোগাযোগ স্থাপনের প্রত্যাশা এতদঞ্চলের মানুষ অন্তরে পোষণ করছেন তা বাধাগ্রস্ত হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা নির্মাণ কাজ দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন কাদা মিশ্রিত পাথর বা নিম্নমানের বালি ব্যবহারের অভিযোগ যথারীতি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু সংবাদের সাথে পরিবেশিত ছবিটিতে পরিষ্কার দেখা গেছে পাথরের স্তুপটি মাটি মেশানো। এই ছবিকে অস্বীকার করার উপায় নেই। এদিকে সেতুটি যে ইউনিয়নে পড়েছে সেই দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও নিম্নমানের বালি-পাথর ব্যবহারের কথা বলেছেন। সুতরাং স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে এই ব্রিজে অন্তত পাথর ও বালুর ব্যাপারে মান রক্ষিত হয়নি। কাজের অন্যান্য দিকগুলোতে তারা কতোটা মান রক্ষা করেছেন তা জানা যায়নি। কিন্তু অনুমিত হয় সর্বত্রই হয়তো এরকম নিম্নমানের কাজই হচ্ছে।
একটি নিম্নমানের ব্রিজ যাতায়াত সড়কের জন্য অনেক মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আমরা চাই না পাগলা-আউশকান্দি সড়কের কোন ব্রিজ মানুষের যাতায়াত দুর্ভোগ কিংবা দুর্ঘটনা ঝুঁকির মধ্যে থাকুক। এই জায়গায় কোন ধরনের আপোশ গ্রহণযোগ্য নয়। তাই উত্থাপিত অভিযোগটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিৎ। আমরা জানি এই সড়ক ও কুশিয়ারা নদীর বৃহদায়তনের সেতু (যা সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্ববৃহৎ) নির্মাণের ব্যবস্থা করতে বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তিনি নিজের উদ্যোগের মাধ্যমে বৃহৎ যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন সেখানে বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় দেখতে আমরা রাজি নই। তাই সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতি আমাদের আহ্বান, ব্রিজের কাজে নিম্নমানের পাথর ও বালি ব্যবহারের বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।