সড়কের ভাঙন ও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রবাসীদের সহযোগিতা

১। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে পলাশ-ধনপুর সড়কের মাজাইর গ্রাম সংলগ্ন অংশে ভাঙনের উপর একটি সচিত্র সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায় রাস্তার ওই অংশের একপাশে বিশাল খালসদৃশ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। বাঁশের বেড়া ও খোঁটা দিয়ে রাস্তাটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদে বলা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ভাঙন দেখা দেয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করে থাকে। যেকোনো সময় এখানে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাছাড়া এই ভাঙন বড় হয়ে সড়কের ক্ষয়-ক্ষতি প্রতিদিনই বাড়িয়ে তুলছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র ধনপুর ও চিনাকান্দি বাজার যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। প্রচুর যানবাহন এই রাস্তায় চলাচল করে থাকে। দ্রুত ভাঙনটি মেরামত না করা হলে বিশ্বম্ভরপুরের দুই প্রধান বাজারসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বহু মানুষের দুর্ভোগের কারণ হবে এই সড়ক। গত জুলাই মাসের আকস্মিক বন্যায় রাস্তাটিতে ভাঙন ধরেছে। তীব্র বেগে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে রাস্তাটি ভেঙেছে।
গত পরশু সোমবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে জেলার দুই প্রধান ধর্মীয় উৎসব (পণতীর্থ ও শাহ আরেফিন (রহ.) এর ওরস) উপলক্ষে বিষয়ে একটি সংবাদ ছাপা হয়। গতকাল (মঙ্গলবার) এই বিষয়ে সম্পাদকীয় মন্তব্য দেয়া হয়েছে। বলাবাহুল্য পলাশ-ধনপুর সড়কটি ওই দুই ধর্মীয় উৎসবে যোগাযোগের অন্যতম একটি সড়ক। গত দুই বছর ধরে ওয়ানওয়ে ট্রাফিকের আওতায় এই সড়কটি পণতীর্থ ও ওরস থেকে যাত্রীদের প্রত্যাগমনের রাস্তা হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয় গুরুত্বের সাথে ওই দুই ধর্মীয় উৎসবের গুরুত্ব বিবেচনায় নিলে এই সড়কটির উপযোগিতা কোন্ পর্যায়ের তা বলে বুঝানোর দরকার নেই। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আগেই এটি মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক।
২। শিক্ষক স্বল্পতা দূর করে শিক্ষা দানের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জগন্নাথপুরে ‘মীরপুর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’ এর উদ্যোগে প্রবাসীরা ১২টি বিদ্যালয়ে ১২ জন প্যারা শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ থেকে জানা যায়। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ পরবর্তী দুই বছরের জন্য এই নিয়োগ পেয়েছেন এবং প্রতিমাসে তারা তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন বলে উদ্যোক্তা সূত্রে জানা গেছে। শিক্ষার উন্নয়নে প্রবাসী জগন্নাথপুরবাসীর এই উদ্যোগ অতিশয় প্রশংসনীয়। এর আগেও জগন্নাথপুরে প্রবাসীদের দ্বারা এমন উদ্যোগের খবর পাওয়া গেছে। আমরা তখনও ওই উদ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দিত করেছি। মূলত প্রবাসীরা কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারেন এবং কোন খাতগুলো সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বর্ণিত উদ্যোগটি এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে। শিক্ষার মতো একটি মৌলিক জাতি গঠনমূলক ইস্যুকে গুরুত্ব দানের অর্থ হলো প্রবাসীরা সঠিকভাবেই সহযোগিতার জায়গাটি চিহ্নিত করতে পেরেছেন। আমাদের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের অনুমোদিত পদের সংখ্যা কম। অনুমোদিত পদের মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যাও অনেক। বিশেষ করে একটু প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সংকট আরও গভীর। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকে। প্রবাসীরা যদি আরও ব্যাপকভাবে এই জায়গায় তাদের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন তাহলে আমাদের বিশ্বাস এতে জগন্নাথপুরের মানুষ বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হবে। প্রবাসীদের এই উদ্যোগকে আমরা অভিনন্দন জানাই এবং অনুরুপ সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর জন্য তাদের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই।