সড়কের সর্বনাশ অবৈধ ট্রলিতে, দুর্ঘটনাও বাড়ছে গ্রামীণ সড়কে

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ট্রলি সর্বনাশ করছে আরসিসি পাকা ঢালাই ও বিটুমিনাসে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ভারী মালামাল বহনকারী এই অবৈধ ট্রলি গ্রামে-গঞ্জে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। পাওয়ার পাম্প মেশিন দিয়ে চলাচলকারী ট্রলির নেই গতিরোধক ব্রেক। এ কারণে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। দুর্ঘটনা কমাতে এ ধরনের ট্রলি ব্যবহার কমানোর দাবি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের। ২ বছর আগে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে করা হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটার বিটুমিনের সড়কে এ জাতীয় পরিবহন ব্যাপকভাবে চলায় এখন খানাখন্দে বেহাল অবস্থা সড়কের।
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নে, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবাধে এই অবৈধ ট্রলি চলাচল করছে। প্রতিদিন সুরমা ইউনিয়নের হালুয়ারঘাট বাজার এলাকা থেকে ভারী মালামাল বহন করে চলাচল করছে এইসব অবৈধ ট্রলি।
এসব অবৈধ ট্রলি ইট, পাথর ও মাটি বহন করে সুরমা ইউনিয়নের হালুয়ারঘাট বাজার থেকে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা, খাগেরগাঁও, ইসলামপুর, আমপাড়া, চৌমুহনী, ডলুড়া, রঙ্গারচর ইউনিয়নের চিনাউড়া, রংপুর, বনগাঁও এলাকায় যাতায়াত করায় আরসিসি পাকা ঢালাই সড়ক ও বিটুমিনের সড়ক ভেঙে বিনাশ হচ্ছে। এই ট্রলি চলাচলের কারণে হালুয়ারঘাট বাজারের পাকা ঢালাই ভেঙে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। খানা-খন্দে বৃষ্টির পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়েছে।
অবৈধ ট্রলি চলাচলের কারণে সদ্য নির্মিত হালুয়ারঘাট বাজার থেকে মঙ্গলকাটা বাজার পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন বিটুমিনের সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রলি চলাচলের কারণে মঙ্গলকাটা বাজারে প্রবেশ পথে ও পাকা

ঢালাই ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলকাটা বাজারের উত্তরে সেতুর গোড়া থেকে খাগেরগাঁও প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানেও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। বনগাঁও ও রংপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এই ট্রলি চলাচলের কারণে কৃষ্ণনগর, আমপারা, ডলুরা, মুসলিমপুর এবং ইব্রাহীমপুর সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এসব ট্রলি ঝুঁকি নিয়ে ইট বহন করছে। দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই।
সড়ক পারাপারের প্রায় সময় ট্রলির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগী মেরে ফেলছে ট্রলি চালকেরা প্রায়সই। এমনকি কোনো কোন ট্রলি সড়কের পাশের দোকান ঘর বা বসত ঘরে ঢুকে পড়ছে।
সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের ব্যবসায়ী নাদীর শাহ ও ডা: সোহেল আহমদ বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এখন অবৈধ ট্রলি চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। ইট, মাটি ও পাথর বহন করে ভাল সড়কে একবার এইসব যান চলাচল করলেই নষ্ট হয়ে যায়। এই জাতীয় ট্রলি চলাচল বন্ধ না হলে সড়ক ভাল থাকবে না। তাই এই অবৈধ ট্রলি বন্ধের দাবি আমাদের।
এলজিইডি’র সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানালেন, সড়ক করার সময়ই এলজিইডি’র পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মাল বোঝাই ট্রাক্টর বা ট্রলি এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে নিষেধ করার জন্য, কারো যদি মালামাল বহনের প্রয়োজন হয়, তারা ছোট ছোট পিকআপ ব্যবহার করবেন। কিন্তু সুরমা উত্তরপাড়ের সড়কগুলোতে তা মানা হচ্ছে না। এ কারণে ২ বছর আগে করা হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা সড়কে অনেক খানখন্দ হয়ে পড়ছে।
জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুকশেদ আলী বলেন, এসব অবৈধ ট্রলি রাস্তা-ঘাটে চলাচল করায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। এই ট্রলি বন্ধ করার জন্য ঈদের পরে পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।