সড়ক অবকাঠামো না হওয়ায় চালু হতে বিলম্ব হবে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমার উপর হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও অংশে সেতু এবং হালুয়ারঘাট থেকে ডলুরা পর্যন্ত সড়ক না হওয়া পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ডলুরায় ইমিগ্রেশনসহ শুল্ক বন্দর চালু’ হবার সম্ভাবনা খুবই কম। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। অবশ্য. সিলেট কাস্টমস বিভাগের অ্যাসিটেন্ট কমিশনার আহমেদুর রেজা চৌধুরীসহ কাস্টমস বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল আগামী রোববার এই শুল্ক বন্দরের সম্ভাবতা দেখার জন্য সরেজমিনে ডলুয়ায় আসবেন।
সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ডলুরা এলাকায় ইমিগ্রেশন সহ শুল্কবন্দর স্থাপনের দাবি বহুদিনের। ১৯৯৯ সালে একবার পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য ডলুরায় শুল্কবন্দর চালু করতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তের ওই পাড়ের আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় আমদানী রপ্তানী শুরু করা হয় নি তখন।
২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ভারতের ব্যবসায়ীরা এই বিষয়ে ডলুরা এলাকায় মতবিনিময় করেছেন। সভায় তৎকালীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বর্তমান মুখ্যসচিব নজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
নজিবুর রহমান ওই সময় বলেছিলেন, ‘শুল্ক বন্দর স্থাপনের উপযোগী সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুরা এলাকা। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বেশকিছু কাজ হয়েছে। যেহেতু দুই দেশের ব্যবসায়ীরা শুল্ক বন্দর চালুর বিষয়ে আন্তরিক, তাই দ্রুত এখানে শুল্ক বন্দর চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এরপর ডলুরা শুল্ক বন্দরের জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়ার কাজ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। সুনামগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতায় থাকা জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বেটাগাঁও মৌজার ৪৫ নম্বর জেএল’র সরকারি খাস খতিয়ানের
১ নম্বর দাগের ০.৪০ একর এবং ২ নম্বর দাগের ৯.৬০ একর জমি ডলুরা শুল্ক বন্দরের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এই জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা।
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর জমির মূল্য নির্ধারণের এই প্রস্তাবনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া’র কাজ শুরু হলেও অবকাঠামো’র কারণে এখানে ইমিগ্রেশন সহ শুল্কবন্দর স্থাপনে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
সিলেট কাস্টমস বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার আহমেদুর রেজা চৌধুরী জানিয়েছেন, ডলুলায় শুল্কবন্দর বা ইমিগ্রেশনসহ বন্দর চালু হলে, কেবল মালামাল আমদানী-রপ্তানী নয়, টাঙ্গুয়ার হাওর, বারেকের টিলা এবং ওই পাড়ে’র কিছু এলাকায় পর্যটক বাড়বে। এইপাড়ের পর্যটকরা ওই পাড়ে যাবেন এবং ওপারের পর্যটকরা এপারে আসবেন। চোরাচালান বন্ধ হতেও সহায়ক হবে। তবে ১৯৯৯ সালে ডলুরায় যখন কাস্টমস ঘোষণা হয়েছিল, তখন কোন আমদানী রপ্তানী হয় নি। আমরা ইতিপূর্বে ডলুরা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, সুনামগঞ্জ শহর থেকে বা সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের হালুয়ারঘাট থেকে ডলুরায় ট্রাক যাবার উপযোগী সড়ক নেই। আবার শুল্কবন্দরের নির্ধারিত স্থান ডলুরা থেকে পাশের চলতি নদীতেও ট্রাক যাবার সড়ক নেই। চলতি নদী’র গভিরতা কমে যাওয়ায় সারা বছর বাল্কহেড বা ট্রলারও চলাচল করতে পারে না। এই অবস্থায় বন্দর চালু হলে মালামাল আসা যাওয়া করবে কীভাবে? এই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে। আগামী রোববারই চেষ্টা করবো ডলুরায় সরেজমিনে এসে এই বিষয়ে সম্ভাবতা যাচাই করেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠাতে। আমি মনে করছি, বন্দর চালু করে এখানে অফিস ও লোকবল নিয়োগ দেবার আগে দুই পাশের সড়কের উন্নয়ন করতে হবে। চলতি নদীকেও ড্রেজিং করতে হবে।
এলজিইিডি’র সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ জানালেন, সুরমার উপর হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু নির্মাণ করা না গেলে বড় বড় ট্রাক চলতে পারবে না। যানবাহন না চললে সড়ক কাজে আসবে না। শুল্কবন্দরও জমবে না। সুরমা নদীর এই অংশের উপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা এলজিইডি’র সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্নের অপেক্ষায় আছি আমরা।