সড়ক খুঁড়াখুঁড়িতে যত দুর্ভোগ

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর পৌরশহরে প্রধান সড়কের সংস্কার কাজের খুঁড়াখুঁড়িতে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় এক মাসে পূর্বে আবদুস সামাদ আজাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের (পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি) পৌর শহরের ইকড়ছই বৈদ্যুতের সাব-স্টেশন এলাকা থেকে অটোরিকশা-সিএনজি-লেগুনা স্ট্যান্ডের নিকটবর্তীস্থানে সড়ক সংস্কার কাজের জন্য খুঁড়াখুড়ি হয়। খুঁড়াখুঁড়ির পর সড়ক সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ওই সড়কের বিদ্যুতের সাবস্টেশন এলাকায় লম্বা খালের মতো গর্ত করা হয়েছে। এ সব গর্তে পচা-ময়লা আবর্জনার পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সড়ক খুঁড়াখুঁড়িতে পথচারিদের পায়ে হেঁটে চলাচল দায় হয়ে উঠেছে। সড়কের পাশে গড়ে উঠা প্রায় পাচঁশতাধিক দোকানপাট রয়েছে। অধিকাংশ দোকানপাটে চলাচলের জন্য বাঁশ দিয়ে সাঁকোর ন্যায় তৈরী করে জনসাধারণ চলাচল করছেন।
ওই এলাকার ব্যবসায়ী জয়নাল হাজারী বলেন, ‘প্রায় এক মাস পূর্বে সড়ক সংস্কারর জন্য খালের মতো গর্ত করা হয়েছে। ফলে লোকজন যাতায়াতে চরম কষ্টের শিকার হচ্ছেন। দোকানঘরের সামনে গর্ত থাকায় ক্রেতাদের আসা যাওয়া কমেছে। আমরা জনসাধারণের চলাচলের জন্য কোনোভাবে বাঁশ ফেলে যাতায়াত ব্যবস্থা রেখেছি।’
আরেক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের খুঁড়িখুঁড়ির কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী। এছাড়া সামান্য বৃষ্টিপাত হলে বন্যায় রূপ নেয়। দোকান ঘরে পানি প্রবেশ করে। যে কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।’
জগন্নাথপুরের পরিবহন শ্রমিক নেতা নিজামুল করিম বলেন, ‘জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারহীন অবস্থায় ছিল। সস্প্রতিককালে এ সড়কে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কাজ শুরু হলেও বিদ্যুতের সাবস্টেশন এলাকায় মাস খানেক ধরে কিছু কাজ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।’
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সুত্র জানান, পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ২২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ৮২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজ পেয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ জানান, আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে কিছু স্থানে পাকাকরণও চলছে। কিছু কিছু স্থানে সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় কাজে বিঘিœত হচ্ছে। তবে ওই সব খুঁটি অন্যত্র সরানোর জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঈদের পর থেকেই পুরোদমে কাজ শুরু হবে।