সড়ক দস্যুতার লাগাম টেনে ধরার এখনই সময়

হঠাৎ করে কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন মালিক শ্রমিকরা। শুক্রবার সকাল থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ার কারণে সুনামগঞ্জসহ সারা দেশে যাত্রী বিড়ম্বনা চরমে পৌঁছেছে। জরুরি প্রয়োজনে স্থানান্তর করতে পারছেন না কোন মানুষ। পরিবহন মালিক শ্রমিকদের যাত্রী জিম্মি করে ফায়দা হাসিলের ঘটনা এরকম নতুন না হলেও ঠিক এই মুহূর্তে কেন তারা ধর্মঘটের মত একটি চরম পথে নেমে পড়লেন তার কোন যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না তারা। পরিবহন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ বুঝাতে চাইছেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে উঠা চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে ফলে নিরাপত্তার কারণে তারা সড়কে গাড়ি নামানো বন্ধ করে দিচ্ছেন। কিন্তু গত পাঁচ দিন ধরে সারা দেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র ছাত্রীরা যে অহিংস আন্দোলন করছে তাতে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া বড় রকমের কোন ভাঙচুর বা সহিংসতা দেখা যায়নি। বরং এরকম শান্তিপূর্ণ ও অভিনব আন্দোলন এদেশে এর আগে দেখা যায়নি। এই আন্দোলনের ফলে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হয়েছে আইন মেনে পথ চলার ব্যাপারে। নাগরিক সমাজের জন্য শিক্ষার্থীরা একটি আদর্শ পথ দেখিয়ে চলেছেন গত ক’দিন ধরে এবং অতীতে বহু প্রচার প্রচারণার ফলে যে সচেতনতা তৈরি হয়নি তার চাইতে ঢের বেশি সচেতনতা তৈরি হয়েছে এই কয়েক দিনে। এরকম একটি ইতিবাচক আন্দোলনকে দায়ী করে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের যাত্রী বিড়ম্বনা তৈরিকারী ধর্মঘট এককথায় নিন্দনীয়। আমরা তাদের সংঘবদ্ধ যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করি।
আসল কথা হল সড়ক সেক্টরে যে নৈরাজ্য চলছে তাতে কিছু পরিবহন মালিক শ্রমিক শংকিত হয়ে উঠেছেন। সরকার ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা অনুধাবন করে ইতোমধ্যে যাত্রীবান্ধব বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং আরও কিছু পদক্ষেপ শুরুর অঙ্গীকার করেছেন। এর মধ্যে সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন অন্যতম। সামনের মাসেই এই আইনটি জাতীয় সংসদে পাস করানোর ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা। জানা গেছে ওই আইনে অবৈধ যানবাহন ও চালক এবং দুর্ঘটনা সংঘটনকারী মালিক-চালকদের বিরুদ্ধে বেশ শক্ত শাস্তির ব্যবস্থা থাকছে। এই আইন পাস হলে সড়কে যেমন অবৈধ ও আনফিট গাড়ি নামানো যাবে না তেমনি লাইসেন্সবিহীন চালকের হাতেও স্টিয়ারিং তুলে দেয়া যাবে না। অন্যদিকে চালকের অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সড়ক সেক্টরে এতদিন মালিক শ্রমিকরা যে বেপরোয়া মনোভাব প্রদর্শন করে মুনাফা লুটে আসছিলেন এবং প্রাণ কেড়ে নিচ্ছিলেন অসংখ্য সাধারণ যাত্রী ও পথচারীর, নতুন আইন পাস হলে সেরকম অবস্থা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না। তাই আইন অনুমোদনের আগেই সরকারকে চাপে ফেলার জন্য পরিবহন সেক্টরের হর্তাকর্তারা এই ধর্মঘট ডেকেছেন বলে সাধারণ্যে ধারণা।
এই অবৈধ ধর্মঘটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক মনোভাব স্পষ্ট। এখন সরকারকে তাদের অনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করা চলবে না। দরকার হলে সরকার থেকে জনগণকে কিছুদিন কষ্ট করার আহ্বান জানানো যেতে পারে। নিরাপদ সড়কের জন্য মানুষ হাসি মুখে তা মেনে নিবে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা আজ যে গণসচেতনতা তৈরি করেছেন তাকে কোন অবস্থাতেই নস্যাৎ করতে দেয়া চলবে না। সড়ক দস্যুতার লাগাম টেনে ধরার এখনই সময়।