হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘটে মানুষের ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে সিলেট, ঢাকাসহ দেশের কোথায় সুনামগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে বাস ছেড়ে যায়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে পরিবহন শ্রমিকেরা বলছেন, রাস্তাঘাটে বাস ভাঙচুরের ঘটনায় তারা নিরাপত্তার কারণে বাস ছাড়ছেন না।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় জেলা বাস টার্মিানালে গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রীদের ভিড়। জেলার বিভিন্নস্থান থেকে যাত্রীরা টার্মিনালে এসে দেখেন বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। টিকেট কাউন্টারে কোনো লোক নেই, তালা দেওয়া। শ্রমিকেরা আশপাশে ঘুরাঘুরি করছেন। কিন্তু বাস ছাড়ছেন না।
জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা আফসার পারভেজ বলেন, জরুরি কাজে সিলেট যেতে চেয়েছিলাম। সকাল আটটা থেকে টার্মিনালে এসে বসে আছি। কখন বাস ছাড়বে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলছে না।
পৌর শহরের হাসননগর এলাকার বাসিন্দা আলী আকবর জানান, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার এক স্বজন চিকিৎসাধীন আছেন। তাকে দেখতে সিলেটে যাওয়ার জন্য টার্মিনালে এসে জানতে পারেন বাস ছাড়বে না।
আলী আকবর আরও বলেন,‘তিন ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। যদি বাস ছাড়ে তাহলে সিলেট যাব। কিন্তু বাস ছাড়ার কোনো লক্ষণ দেখছি না।’
সদর উপজেলার সাপেলা গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকেরা মুখে মুখে ভয়ের কথা বললেও আসলে তারা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পাল্টা হিসেবে এই কর্মসূচি দিয়েছে। এটা তাদের কৌশল।’
নাম প্রকাশে একজন পরিবহন শ্রমিক বলেন,‘দুর্ঘটনা তো ইচ্ছে করে কেউ ঘটায় না। তারপরও আইন আছে, বিচার আছে। ছাত্ররা আন্দোলন করছে, আমরাও তাদের পক্ষেই আছি। কিন্তু তারা বাস ভাঙচুর করলে, আমাদের উপর আক্রমণ করলে তো আমরা বাস চালাতে পারব না।’
জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেজাউল ইসলাম বলেছেন, পরিবহন ধর্মঘট নয়, রাস্তায় বাস ভাঙচুর হতে পারে, তাই শ্রমিকেরা ভয়ে বাস চালাচ্ছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তারা বাস ছাড়বেন না।
বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া বলেন, ‘আমরা পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চাই। কিন্তু শ্রমিকরা নিরাপত্তার অভাবের কথা জানিয়েছে। তারা দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এখানে আমাদের করণীয় কিছু নেই।’