হাঁস চুরির অভিযোগে ইউপি সদস্য কারাগারে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
হাঁস চুরিসহ জলাশয়ে অনধিকার প্রবেশ করে প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার অভিযোগে ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য টিটু মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে টিটু মিয়াকে তার নিজ গ্রাম সলপ তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৯ নভেম্বর সেলবরষ ইউনিয়নের ভাটাপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে ইয়া আমিন ইসলাম বাদী হয়ে টিটু মিয়াসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছিলেন। বুধবার দুপুরে ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ইয়া আমিনের চাচাতো ভাই রনি মিয়ার ৬০০ হাঁসের একটি ফার্ম রয়েছে। আর এসব হাঁস উপজেলার সদর ইউনিয়নের লংকাপাথারিয়া মৌজায় অবস্থিত হিরাজান জলাশয়ে ইজারাদারের কাছ থেকে জমা রেখে সেখানে লালন পালন করছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা প্রায়ই সেখান থেকে হাঁস চুরি করে নিয়ে যায়। এমন কর্মকা-ের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মাঝে দ্বন্দ্বের শুরু হয়। গত ৬ নভেম্বর রনি হাঁসগুলো নিয়ে জলাশয়ে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে যায় এবং রনিকে দেখে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয়। রনি এর প্রতিবাদ করলে সেখানে উপস্থিত টিটু মিয়ার হুকুমে ভাটাপাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মনিরুজ্জামান ময়না ও মতি মিয়া, মৃত শাহ আলমের ছেলে সজল হাসান রনির ওপর হামলা চালায়। এতে রনি মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় রনির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রনিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। অপরদিকে হামলাকারীরা জলাশয় থেকে অন্তত ৩১৫ টি হাঁস নিয়ে সেখান থেকে সটকে পড়ে।
বাদী পক্ষের আইনজীবি অ্যাড. আরফান আলী বলেন, ‘টিটু মিয়ার বিরুদ্ধে এ ঘটনায় হুকুমের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।’