হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি

হাইড্রোলিক হর্ন তীব্র শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র বিশেষ। যানবাহনে এই ধরনের হর্ন ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে হাইকোর্ট। কিন্তু আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা মানছেন না যানবাহনের মালিক-চালকরা। এই ধরনের হর্ন ব্যবহারের ফলে নাগরিক জীবনে নানাবিধ যন্ত্রণা তৈরি করে। মানুষের শ্রবণেন্দ্রীয়র শব্দচাপ সহ্য করার একটা মাত্রা আছে। বৈজ্ঞানিক হিসাব মোতাবেক কানে সহনীয় শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা হল ৬০ ডেসিবল পর্যন্ত। কিন্তু হাইড্রোলিক হর্নগুলোর শব্দ ৬৫ থেকে ৯৫ ডেসিবল পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই পরিমাণ শব্দ মানব দেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। অতিমাত্রার শব্দ যেমন কোন মানুষকে বধির করে দিতে পারে তেমনি হার্টের কিংবা উচ্চরক্তচাপ অথবা মানসিক রোগিদের জন্যও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। শিশু ও বৃদ্ধরা এই শব্দ আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েন।  তাই অনতিবিলম্বে এই ধরনের স্বাস্থ্য হানিকর হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে কর্তৃপক্ষীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক।
হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধ করা তেমন কোন কঠিন কাজ নয় বলেই আমরা মনে করি। কারণ এই হর্ন যানবাহনের গতি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে কোন উপকারেই আসে না। হাইড্রোলিক হর্নের বদলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবান্ধব হর্ন সংযোজন করতে আহামরি কোন টাকাও খরচ হয় না। সামান্য টাকাতেই এই বদলের কাজটি সেরে ফেলা যায়।  চালক-মালিকদেরকে একটু সচেতন করা গেলেই এটি বন্ধ করা সম্ভব। এমনও হতে পারে, হাইকোর্ট যে এই ধরনের হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন সেটি আদৌ হয়ত কোন কোন মালিক-চালক জ্ঞাতই নন। তাদেরকে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগকেই। সচেতনতা মালিক-চালকদের কেমন পরিবর্তন করতে পারে সেটি আমরা অতীতে বহুভাবে দেখেছি। যেমন একসময় তীব্র আলোর হেডলাইট ব্যবহার করা হতো অর্ধেক অংশ রঙ না করেই। দুই স্ট্রোকের ইঞ্জিনবিশিষ্ট যানবাহন ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ করা হতো ব্যাপকভাবে। এখন এই ধরনের বাস্তবতা নেই। সরকারের উদ্যোগ ও মালিক-চালকদের সহায়তায় এগুলো রোধ করা গেছে। হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের বিষয়টিও অনুরূপ পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সহজতর। এখন বেশির ভাগ গাড়িতেই হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হয় না। যেগুলোতে ব্যবহার করা হয় সেগুলোও ক্রমশ দূর হয়ে যাবে।
শব্দের কথা যখন আসল তখন বলতে হয়, শুধু গাড়ির হর্ন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। গাড়ির হর্ন ছাড়াও আরও নানা ধরনের শব্দ উপদ্রব রয়েছে। রিক্সার সামনে-পিছনে মাইক লাগিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা চলছে সমান তালে। কোন সভা সমাবেশ করা হলে বহু জায়গা জুরে মাইক লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরিবেশকে শব্দ দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে এগুলোকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আসল কথা হলো মানুষ যদি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভাল করে বুঝে নিত, তাহলে সবকিছুই সহজ হয়ে যায়। আসল সমস্যা হলো আমরা কেউ নিয়ম মানতে চাই না। রোমিও টাইপ ছেলেরা মোটরসাইকেলের সাইলেন্সারের কভার খোলে শব্দ ও ধোয়া ছেড়ে যেমন হিরোইজমে মেতে উঠতে চায়, অনুরূপ প্রবণতা অনেকের মাঝেই দেখা মিলে। এই ধরনের উৎকট ও অশোভন অভ্যাস থেকে যদি আমরা বেরিয়ে আসি তাহলে হাইড্রোলিক হর্ন কেন যেকোন উপদ্রব থেকে সকলেই রক্ষা পেতে পারি।