হাওরপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন খুলতে হবে, পাউবো’র না

বিশেষ প্রতিনিধি
পানি প্রবেশ বা নৌ-চলাচলের সুবিধার্থে এবার হাওরের বাঁধ খুলে দেওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পাউবো বলছে, ‘কোন বাঁধই খুলে দেওয়া হবে না। নৌকা চলবে নদী পথ দিয়ে।’ কিন্তু হাওরের কৃষক এবং কৃষক সংগঠকরা বলছেন,‘অতি প্রয়োজনীয় বাঁধ খুলে দিতে হবে। এগুলো না খুললেও ভেঙে যাবে, ভাঙলে ক্ষতি বেশি হবে। বেশি পথ ঘুরে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে।’ এদিকে, হাওরের স্লুইসগেটগুলো দ্রুত খুলে দেবার দাবি জানিয়েছেন হাওরপাড়ের জেলে কৃষকরা।
শাল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি পিসি দাস মনে করেন,‘শাল্লার বৃহৎ ছায়ার হাওরে মাছের উৎপাদন নিশ্চিত করতে কুকিয়া স্লুইসগেট দ্রুত খুলে দিতে হবে। একইসঙ্গে নৌ-চলাচলের সুবিধার জন্য উজানগাঁওয়ের খালের মুখের বাঁধ এবং আব্রার খালের মুখের বাঁধ খুলে দিতে হবে। এই উপজেলার ভান্ডা বিলের বাহারার স্লুইসগেট খুলে দিতে হবে। নোয়া জাঙ্গালের বাঁধ কাটতে হবে। গিলোটিয়া হাওরের স্লুইসগেটও জরুরি ভিত্তিতে খুলে দিতে হবে।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আঙ্গারুলি হাওরের মিছাখালি রাবার ড্যাম দ্রুত খুলে দেবার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে- কৃষকরা।
দোয়ারাবাজার উপজেলার কনসখাই হাওরের নূরপুর গ্রামের পাশের স্লুইসগেট এবং মংলার বাঁধ খুলে দেবার দাবি স্থানীয়দের।
জামালগঞ্জের হালির হাওরের রাতলার স্লুইসগেট, সুইচ্চার স্লুইসগেট, পাগনার হাওরের গজারিয়া স্লুইসগেট ও ঢালিয়া স্লুইসগেট এবং চাঁনপুর খালের মুখের বাঁধ খুলে দিতে হবে।
দিরাই উপজেলার বরাম হাওরের কাদিরপুরের বাঁধ খুলে দেওয়া প্রয়োজন।
তাহিরপুরের বিরনগরের খাল এবং মাটিয়ান হাওরের মুক্তিরখাল সপ্তাহখানেক পরে খুলে দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। তবে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন মনে করেন এখনই এই দুই খাল খুলতে হবে।
কামরুজ্জামান কামরুল মনে করেন, এই দুই খাল আরও কয়েকদিন বন্ধ থাকলে কৃষকদের জন্য ভাল হয়। আরও কিছু ধান কেটে আনতে পারবেন কৃষকরা। কামরুল বললেন,‘নৌ চলাচলের সহজ পথ না খুলে দিলে, মানুষ খুব বেশি ঘুরে যাতায়াত করতে চাইবে না।’
ধর্মপাশার কাওলাই নদীর মুখের বাঁধ এবং উলাসখালির মুখের বাঁধ খুলে দিতে হবে। এই উপজেলার মধ্যনগরের বাইমচাপড়া, হামলা দিঘা এবং ঘোড়াডোবার বাঁধ খুলে দেবার দাবি স্থানীয়দের।
মধ্যনগরের বাসিন্দা সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন,‘হাওরে মাছের উৎপাদন নিশ্চিত করতে, জমির উর্বরা শক্তি বাড়াতে পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নৌ-চলাচলের সহজতর পথ থাকতে হবে। মানুষ নদী পথে এক মাইলের পথ ছয় মাইল ঘুরে যেতে চাইবে না। পথ খুলে না দিলে বাঁধের আরও বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে।’
ধর্মপাশার কৃষক নেতা, কৃষক সংগ্রাম কমিটির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল বাশার ঠাকুর খান বলেন,‘কিছু কিছু খালের মুখ বর্ষায় খুলে দিতেই হবে এবং প্রতিবছরই এগুলো বাঁধতে হবে। রাখার চেষ্টা করলেও এগুলো রাখা যাবে না।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন,‘পিয়াইন নদীর বোগলাখালির একটি বাঁধ ছাড়া, কোন বাঁধই এবার খুলে দেওয়া হবে না। নদী পথে নৌ-চলাচল করবে। উপজেলা উন্নয়ন সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে হাওর থেকে পানি কোন পথে নামানো যায় চিহ্নিত করা হবে, সেই পথ দিয়ে পানি নামানো হবে। স্লুইসগেটগুলো খুলে দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২-৩ দিনের মধ্যে সব স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হবে।’