হাওরপাড়ে জমজমাট ফুটবল আসর চ্যাম্পিয়ন-কিশোরগঞ্জের ধনপুর ইউনিয়ন

পিসি দাশ ও সুব্রত দাশ খোকন, শাল্লা :
সুনামগঞ্জে হাওরের চারজেলা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়ন দল নিয়ে আয়োজিত আবদুল মান্নান চৌধুরী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার সাহিদ আলী পাবলিক পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিকেলে এই ফাইনাল খেলা হয়। বিপুল সংখ্যক দর্শক এই খেলা উপভোগ করেন।
টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনার নৌকা পুরস্কার পেয়েছে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন একাদশ। ফাইনালে তাদের সঙ্গে লড়াই করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়ন একাদশ। নির্ধারিত সময়ের খেলায় উভয় দলের ১-১ গোলে সমতা থাকায় পরে ট্রাইবেকার হয়। এতে ৪-৩ গোলে জয়ী হয় ধনপুর ইউনিয়ন একাদশ। বাহাড়া ইউনিয়ন পেয়েছে রূপার নৌকা পুরস্কার।
শাল্লা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় এই টুর্নামেন্ট শুরু হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। এতে হাওরের চারজেলার ১৬টি ইউনিয়ন দল অংশ নেয়। শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আবদুল মান্নান চৌধুরীর নামে আয়োজিত এই ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা দেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণীতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের (দিরাই ও শাল্লা) সাংসদ জয়া সেনগুপ্তা ও শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার।
এম এ মান্নান তাঁর বক্তব্যে বলেন, গত বছর ফসল হারিয়ে হাওর এলাকার মানুষের মাঝে হাহাকার ছিল। এবার ফসল তুলতে পারায় কৃষকের ঘরে ঘরে আনন্দ বিরাজ করছে। এই আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে মাঠে। হাওর এমনই, কৃষক হাসলে হাওর হাসে। ফসল গোলায় থাকলে হাওরের মানুষের আনন্দের সীমা থাকে না। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার হাওর এলাকার মানুষের পাশে সব সময় আছে। গত বছর ফসলহানির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শাল্লায় ছুটে আসেন। তিনি ফসলহারা মানুষের পাশে দাঁড়ান। তিনি মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করেন। একটি বছর সরকার হাওরের ফসলহারা কৃষকদের সব রকম সহযোগিতা দিয়েছে। শেখ হাসিনা হাওর এবং হাওরের মানুষের প্রতি সবসময়ই আন্তরিক।
সাংসদ জয়া সেনগুপ্তা বলেন,‘হাওরে ফসল তোলার পর প্রতি বছরই গ্রামে গ্রামে প্রীতি হা-ডু-ডু, কুস্তি, ফুটবল, গান, কিচ্ছার আসরসহ নানা রকম আয়োজন হয়। এটাই হাওর এলাকার ঐতিহ্য। এতে মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়ে। এই ফটুবল টুর্নামেন্ট আয়োজনটি ছিল আরও ব্যাপক। এতে চারটি জেলার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে। প্রতি বছর যেন এটা করা হয়।’
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কালীপদ রায় বলেন,‘এই টুর্নাামেন্ট নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। এতে করে চারটি জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে একটি যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। উপজেলায় একসঙ্গে এত মানুষ কোনো খেলায় উপস্থিত ছিল বলে আমি আগে দেখিনি।’
প্রয়াত আবদুল মান্নান চৌধুরীর ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন চৌধুরী বলেন,‘আমার বাবার নামে টুর্নামেন্ট হলেও উপজেলার সবাই মিলেই মূলত আমরা এই আয়োজনটি করেছি। প্রতি বছরই চেষ্টা করব এটি করার।’
পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অলিউল হক, বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র চৌধুরী, ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হরনাথ দাস, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু প্রমুখ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।