হাওরবাসীর উন্নয়নে দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করছেন সুনামগঞ্জবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি
সরকারের চারবছর পূর্তির পর সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসমাবেশকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন হাওরাঞ্চলের মানুষ। হাওরবাসী মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী সিলেটের জনসভায় হাওরবাসীর বঞ্চনার অবসান ঘটাতে নানা উন্নয়নের নির্দেশনা দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের সমাবেশে হাওরবাসীরও প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি ঘটাবেন বলেই আশা করছেন সুনামগঞ্জবাসী।
২০১০ সালের ১০ নভেম্বরে তাহিরপুরে এবং সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল শাল্লায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেখতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের এই মেয়াদে সিলেটের এই সমাবেশকেই এই অঞ্চলে শেষ সমাবেশ মনে করছেন অনেকে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর এবারের সিলেটের সমাবেশে হাওরবাসীর চাওয়াও বেশি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাহিরপুরের সমাবেশে হাওরাঞ্চলবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘হাওরাঞ্চলের ৫ জেলার কোটি মানুষকে বাঁচাতে এবং হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ  সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য হাওর উন্নয়ন বোর্ডকে সচল করে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করবে সরকার। মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণসহ ১০ টাকা দিয়ে কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করে দিয়ে- মহাজনদের খপ্পর থেকে কৃষকদের বের করে নিয়ে আসবেন তিনি ।
বিগত সময়ে  কৃষকদের ১০ টাকা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলে কৃষি ভর্তুকি দেবার কাজ শুরু হলেও হাওর উন্নয়ন বোর্ডকে সচল করে মহাপরিকল্পনা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।
তাহিরপুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সরকার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য নদী খনন, বাঁধ ও প্রয়োজনীয় স্লুইস গেট নির্মাণ করবে। সুনামগঞ্জের পাহাড়ী নদী রক্তি, বৌলাই ও যাদুকাটা এবং টেকেরঘাট থেকে ঘাগলাজুর পর্যন্ত নদী খননেরও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।’ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী রক্তি, বৌলাই ও যাদুকাটা খনন শুরু হলেও হাওরের অনেক স্লুইসগেট এখনো অকার্যকর। সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্ট থেকে ভৈরব পর্যন্ত মেঘনা নদী খননের দাবি এখন পুরো হাওরবাসীর। একই সঙ্গে হাওরের অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট নদী খননেরও দাবি উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে থাকা দায়িত্বশীলদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার সময় বলেছিলেন,‘সুনামগঞ্জের শিক্ষার্থীদের প্রতিকূল পরিবেশে পড়াশুনা করতে হয়। হাওর এবং পাহাড়ী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বর্ষায় হাওরাঞ্চলে প্রচ- ঢেউ ডিঙিয়ে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় হাওরে এবং পাহাড়ী অঞ্চলে আবাসিক স্কুল গড়ে তুলতে চায় সরকার।’
সুনামগঞ্জবাসী চায় সিলেটের আজকের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী হাওরাঞ্চলের আবাসিক স্কুলের বিষয়েও কিছু বলবেন।
২০১০ সালে তাহিরপুরে জনসভায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে হাসপাতাল, পাগলা- জগন্নাথপুর আউশকান্দি সড়ক, ধর্মপাশা – মহেষখলা- লাউড়েরগড় সীমান্ত সড়ক, তাহিরপুর সীমান্তে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের জন্য স্মৃতিফলক নির্মাণ, জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় ৩৫ শয্যার স্বাস্থ্য কমপেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
বাস্তবে মধ্যনগরের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ২০ শয্যার হাসপাতাল ভবন এখনো হয়নি, কিন্তু ভবন ছাড়াই এখানে ডাক্তার এবং নার্স পোষ্টিং দেওয়া শুরু হয়েছে বলে সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে। ধর্মপাশা- মহেষখলা-লাউড়েগড় সীমান্ত সড়কের কাজ চলছে, এখনো সম্পন্ন হয়নি। তাহিরপুর সীমান্তে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতিফলক হয়েছে। উপজেলাগুলোর মধ্যে ছাতক, জগন্নাথপুর, দিরাই ও ধর্মপাশায় ৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবন হয়েছে, জনবলও কিছু নিয়োগ হয়েছে, তাহিরপুরে ৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবন হচ্ছে, অন্য ৬ উপজেলায় এখনো ৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের কাজ শুরু হয়নি।
এছাড়া গত বছরের এপ্রিল মাসে সুনামগঞ্জে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতালসহ মেডিকেল কলেজ স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একনেক সভায়। পরে গত ১৬ মে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা স্থান নির্বাচন কমিটির সভায় সুনামগঞ্জে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতালসহ মেডিকলে কলেজ স্থাপনের জন্য দিরাই রাস্তার মোড়ের উত্তর-পশ্চিম দিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ১৫৬ নম্বর জেএল-এর কাঠইর মৌজায় মোট ৮৪ টি দাগে ২৯.২৪ একর জমি স্থায়ীভাবে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এখনো মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়নি, কাজও শুরু হয়নি। সুনামগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা সিলেটের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের কাজ শুরু’র নির্দেশনা দেবেন।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বললেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা হাওরের মানুষকে গোপালগঞ্জের মানুষের মতোই ভালবাসেন, হাওরবাসীর প্রতি তাঁর মমতা-আবেগ সবসময় প্রকাশ করেন, আমাদেরকে বলেন হাওরবাসীর জন্য বেশি বেশি প্রকল্প করার জন্য, হাওরবাসীর জন্য দেওয়া তাঁর প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে, কোন কোনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুনামগঞ্জে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি আমি সিলেটে যাওয়ার আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবো।’