হাওরবাসীর পাশে আছি, থাকব-প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি এবং আমার সরকার সব সময় আপনাদের পাশে আছি। আগামীতেও থাকবো। হাওর এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন আমরা করবো ইন্শাল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম হাওর। টাঙ্গুয়ার হাওরের আয়তন প্রায় ১২ হাজার ৬শত ৫৫ হেক্টর। প্রায় ৬০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবনধারণের জন্য এই হাওরের উপর নির্ভরশীল। টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং হাওরপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কোটি ৬১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। গত বছর মার্চ মাসে অকাল বন্যায় সিলেট বিভাগের ৪টি এবং নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলের ব্যাপক ফসলহানি ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। আমরা বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এক বছর যাবৎ ১ লাখ ৬৮ হাজার কৃষক পরিবার এবং নয় হাজার ছয়শত ৯৪ টি মৎস্যজীবী পরিবারকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০টাকা সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছি। এছাড়াও ৩ লাখ কৃষক পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি সার, ৫ কেজি বীজ এবং এক হাজার টাকা করে নগদ বিতরণ করা হয়। ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার চারশত কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত অথবা পুননির্মাণ করা হয়েছে। হাওরগুলোতে ২০৫ মে. টন বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। হাওরাঞ্চলের পানি নিস্কাশন বিভিন্ন অবকাঠামো মেরামত ও নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য এক হাজার একশত চল্লিশ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখার জন্য বিশেষ ভিজিএফ কার্যক্রম ও বিকল্প আয় বর্ধক কার্যক্রমও গ্রহণ করা হবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাওরের জেলে ও কৃষক সম্মেলনের শুরুতে ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ‘আমরা স্বাধীন জাতি আমরা নিজেদের মতো করে দেশ গড়বো। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগে দেশের ২৫ ভাগ মানুষের মাথার উপর বিদ্যুতের আলো ছিল, বর্তমানে ৯০ ভাগ মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এই সরকার কৃষকের সরকার, এই সরকার গরীবের সরকার। নেত্রী হাওর এলাকার মানুষকে ভালবাসেন । তিনি আমাকে বলেছেন, হাওর এলাকার মানুষ অনেক কষ্টে আছে, বেশী করে হাওরের প্রকল্প নিয়ে আসেন।’
তিনি টাঙ্গুয়া হাওরের হানিয়া কলমা বিল ইজারা বাতিলের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবেন বলে জানান।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজার সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক পিযুষ রঞ্জন পুরকায়স্থ টিটুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসের রতন বলেন, ‘টাঙ্গুয়া হাওরকে ইজারা মুক্ত রাখা হোক। সম্প্রতি টাঙ্গুয়া হাওরের হানিয়া কলমা বিল ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে ইজারা দেয়া হয়েছে। হানিয়া কলমা বিল হচ্ছে টাঙ্গুয়া হাওরের মা মাছের অবয়াশ্রম। তাই এটির ইজারা বাতিল না করলে টাঙ্গুয়া হাওরে মা মাছের বংশ বলতে আর কিছুই থাকবে না।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মোঃ বরকতুল্লাহ খান, এলএআরডির নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য শামীম আহমদ মুরাদ, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, শ্রীপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার, তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক হাফিজ উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অনুপম রায়।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, মধ্যনগর যুবলীগ সভাপতি মুস্তাক আহমদ, শিক্ষক জমিরুল হক, মিছবাহুল আলম, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি বজলু মিয়া, মহিলা যুবলীগ আহবায়ক আইরিন আক্তার, আলিফনুর খোকন মিয়া, তারা মিয়া সামিউল কিবরিয়া, রুবেল মিয়া, আবুল হোসেন প্রমুখ।